Monday, August 31, 2015

গরমের ছুটি ....

ছোটবেলা বলতেই মনে পড়ে
গরমের ছুটি
আর ছুটি মানেই
দৌরাত্ম্য দ্বিগুন !
আমাদের বাংলায় পোকা-মাকড়ের
উপদ্রব খুব বেশি !
দিল্লিতে ঠিক তার উল্টো
এমনকি পিন্প্রেও রীতিমতো
খুঁজে দেখতে হয় !

তা আমার অবসরযাপন এর
অভ্যাস ছিলো পিন্প্রে ধরা !
আমার কাছে একটা
চাবান্প্রাশের কৌটো ছিলো
সেই কোটো তে চোখে পিন্প্রে এলে
বন্দী করা এই ছিলো কাজ !
তবে শুধু এখানেই ক্ষান্ত হতাম না
বাংলায় কথা আছে মাছি মারা।
আর,মাছি মারা যে
নেহাৎ  সহজ কাজ না
যারা মেরেছে তারা জানে।
আমার মাছি মারা'র সময় ছিল
দুপুরবেলা
মা-বাবা সবাই ঘুমোচ্ছে ভিতর ঘরে
আমি তখন বাইরে ঘরে
জানালায় পর্দা টাঙানো তার পিছনে দাঁড়িয়ে।
জানলার ওপারে ছিল কাগজ্ফুলের গাছ
কাঁচের এপারে মাছি ;ওপারে গাছ
তা,আমার আর মাছি'র মধ্যে
দূরত্ব'টুকু ছিল ওই পর্দা'র !
প্রসঙ্গত পর্দাই ছিল আমার ব্রহ্মাস্ত্র
প্রথম কিছুক্ষণ অপেক্ষা !
তারপর সুযোগ পেলেই আঙ্গুল পর্দায়
পর্দা কাঁচে এবং সংহার।
আমার এই হত্যালীলা চলতো
৪ টে না বাজা পর্যন্ত।
কারণ,৪ টে  তে ছিলো
খেলতে যাওয়ার্ সময়।
তখন,এতটা লম্বা ছিলাম না
তাই দরজার ছিটকিনি খুলতে
একটু অসুবিধা হতো।
তবে,তা সাময়িক
আস্তে আস্তে দরজা খুলে
বাইরে বেরিয়েই
দে ছুট ....... !!!

(ক্রমশ .......)

৩১.০৮.২০১৫

Sunday, August 30, 2015

প্রথম প্রেম ....

তোমরা আমাকে কবি বলেই জানো
এমনকি,আমার ও তাই ধারণা। 
চেষ্টা করে দেখেছি স্বাচ্ছন্দ্য আসে না
তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই আমার 
বিদ্যাসাগর থেকে বিভুতিভূষণ অনেক দিয়েছেন 
আমি না হয় কিছু কবিতা লিখি !
রবি ঠাকুর থেকে নজরুল সকলেই তো কবি 
কবিতা মানেই প্রেম 
প্রেম না থাকলে কবিতা আসেনা। 
আর ,আমার জীবনেও প্রথম প্রেম 
এই শহরের বুকে 
আমারই সহপাঠিনী 
তখন যদিও প্রেম ব্যাপার টা বুঝতাম না। 
আর যতদিনে বুঝলাম 
অনেক দুরে ফেলে এসেছি ওকে !
আমি আজও একা হাঁটি এই শহরের বুকে 
পূর্ব থেকে দক্ষিন রোজ পাড়ি দি। 
আজও মনে হয় ও'র কথা 
মনে হয় ,
যদি মুখোমুখি হই !
আমি হয়তো চিনতে পারবো না 
কিন্তু ও পারবে 
সেদিনও ওই চিনেছিলো 
কোনো এক অজানা অধিকার ছিলো যেন ও'র 
আমার ওপরে !
দেখা হলে  শুধু একটাই কথা 
বড় হলে কাকে বিয়ে করবো ?
আজও ভেবে কুল পাইনা ওইটুকু বয়েসে 
জীবনের এত বড়ো  সিদ্ধান্ত 
কিভাবে কেউ নিতে পারে!
পারে কেবল তখনই 
যখন মানুষ প্রেমে পড়ে। 
ও পড়েছিলো আমি বুঝিনি 
আজ অবচেতনে খুঁজি তাই হয়তো পাইনা। 
কিন্তু আজ একটা কবিতা 
যে কবিতা'র উত্তরাধিকার সত্ব ও'রই নামে 

"আমার মরণশীল জীবন 
সীমিত সময় !
অবসর চাইনা আমি 
যদি ,তুমি পাশে থাকো। "
.............
(ক্রমশ :)  

৩০.০৮.২০১৫  

স্কুলে যাওয়া ......

এখন আমি ২৫
আমার শৈশবের পর আমার যৌবন 
আমি ও আমার শহর !

অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে এই শহরের কথা 
আমার জীবন এই যমুনা'র দান। 

মনে পড়ে ,আমার প্রথম স্কুল যাওয়া 
মায়ের ইচ্ছা ছিল দাদা'র পর যেন 
একটা মেয়ে হয়। 
হয়নি তাই মায়ের যাবতীয় 
সাজগোজ অত্যাচার হতো আমার উপরই !
সারামুখে পাওডার লাগিয়ে 
তারপর শুকনো কাপড় দিয়ে মোছা 
এই ছিল মায়ের নিয়ম !
মায়ের হাত ধরে স্কুলের প্রথম দিন 
আমি কিন্তু কাঁদিনি 
কোনো কারণ ছিলোনা ইনফ্যাক্ট !
সরকারী স্কুল ,সালটা ১৯৯৬
ছোট ক্লাসে বেঞ্চ থাকতো না 
আমার শিক্ষা শুরু হলো শতরঞ্জিতে বসে। 
ভালো লাগতো আমার 
আজও ভালো লাগে 
ভালো লাগাটা এই মাটি -কে 
ওই সাধারণ মানুষগুলো কে। 
সেই শিক্ষাই হয়তো আজও 
আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়
সরলতা ও বিনয়ের পথে চালিত করে !
ঘর থেকে পায়ে হাঁটা দুরত্বেই 
ছিলো আমার স্কুল। 
অবশ্য এতদিনে আমরা একটা 
ভালো ঘর নিয়েছিলাম। 
গরমের দিনে সকাল থেকে স্কুল 
শীতকাল হলে দুপুরে। 
সকালের স্কুল থাকলে 
বাবা'ই তৈরী করে পাঠাতো 
দুপুরে হলে মা !
স্কুল যেতে গিয়ে যেটা সবথেকে 
বড় সমস্যা ছিলো আমার কাছে 
তা হলো সব হয়ে গেলেও 
জুতো'র ফিতে কিছুতেই বাঁধতে পারতাম না। 
এই শিক্ষা 'র ঋণ 
আমার দাদা'র কাছে। 
আগেই বলেছি দাদা ছিল খুব শান্ত 
সঙ্গেই যে কোনো ঘরোয়া কাজে দক্ষ !
পড়াশোনায় ভালো ছিলাম 
আমার রেজাল্ট সে কথাই বলে। 
আমাদের ক্লাসে ২টো ফার্স্ট বয় ছিলো 
রাকেশ ও ইমরান 
সেকেন্ড হতো দীপক 
আর আমি থার্ড। ..............(ক্রমশ: )   


---------------

৩০.০৮.২০১৫
 

ল অফ মোশন.........

আমার উপদ্রবে নাজেহাল
মা একবার আমার মাথা ফাটালো !

বাবা মা -এর উপর খুব রেগে গেছিলো
যদিও মা 'ই নিয়ে গিয়েছিলো
ডাক্তারের কাছে !

মনে পড়ে
ডলি আন্টির কথা
জ্বর ইত্যাদি সকল ব্যামো'র
ওয়ান স্টপ সলিউশন !
তবে সে সময় জীবনে একটা
বেশ মজা ছিলো !
আবার আমার বানানো নিয়মও
বলা যায়....!!!
যতবার শরীর খারাপ হতো
মায়ের কাছে নতুন একটা খেলনা নিতাম !

কমিক্স পড়ার নেশাটাও খুব ছিলো
আবার,সেই সময় ভারতের
প্রথম কমিক স্টার জন্ম নিলো .
সবাই জানে আমি জানি
প্রসঙ্গত ভদ্রলোক মুকেশ খন্না
আমরা ডাকতাম "শক্তিমান" !
সেইসময় কেবেল টি.ভি 'র কনসেপ্ট
কম ছিলো বলা যায় !
চ্যানেল বলতে ডি। ডি ১ ব্ল্যাক & ওয়াইট
টি ভি বলতে মনে পড়ে
যতটাই আমি চঞ্চল ছিলাম
আমার দাদা ছিল ততই শীতল !
অন্তত আমার তুলনায়
যদিও ১ বছরের ছোট -বড় ছিলাম আমরা !
কিন্তু,লড়াই বাঁধলে আমি জিততাম
নিরপেক্ষ ভাবেই বলছি !

কিন্তু ,
সেবার ব্যাপারটা বাবা'র চোখে পড়ে গেলো
ফলস্বরূপ নিউটনের ল অফ মোশন
চরিতার্থ হলো টি। ভি র ওপর।
একটু ভেঙ্গে বললে
সেদিন রবিবার ছুটির দিন
দু,ভাই মিলে টি ভি তে ম্যাচ দেখছি।
কিন্তু পুরোনো টি ভি এন্টেনা 'র অদ্জাস্ত্মেন্ট
সেই নিয়ে হাতাহাতি।

বাবা'র চোখে পড়তেই
টি ভি ভূ পতিত হলো।
শ্মশানের শান্তি তখন চরাচরময়
কেউ একটু শব্দ করিনি
বাবা খুব নিরুত্তাপ ,
নিরপেক্ষ ;নীরব
চিরদিনই !

..........(ক্রমশ )

-২৯.০৮.২০১৫

আমার শহর একলা কাঁদে ....

আমার শহর একলা কাঁদে
এখন অনেক রাত
রাতের আকাশে রং হয়না
ঝিকিমিকি তারাদের
জোনাকি পথ দেখায় !

আজ আমি লিখছি
আমার শহরের কথা !
বকলমে আমার আত্মকথা
আমার আত্মা
আমার আত্মমেহন
আমার শহর
মহানগর দিল্লি !

আমার জন্ম যদিও প্রত্যন্ত বাংলার
রেলশহর চিত্তরঞ্জন !
সম্পূর্ণ ৩ বছর হইনি তখনও
তাই জ্ঞান ছিলোনা !
মা-বাবা -দাদা -আমি
আমরা মামাবাড়ি ফেলে দিল্লি আসি !
সে অনেকদিনের কথা
আমি তখন ৪ বা ৫
আমার অক্ষর জ্ঞান ইংরেজিতে
তারপর হিন্দি
বাংলাটা তখনও দাদু -দীদা 'র লেখা
চিঠির ভাষা বলেই জানতাম !
দীদা আমায় বাদশা নাম দিয়েছিলো
এই তো সেদিন মায়ের সাথে
পুরোনো কিছু ডায়েরির পাতা
উল্টোতে গিয়ে জানলাম
দীদা আমার নাম ভেবেছিলো শুভদীপ।
যদিও দাদা'র নাম সৌরভ হওয়ায় নাকি
আমার নাম গৌরব রাখা হলো।
যদিও গৌরব নামটাই আমার পছন্দ বেশি
সমাস করলে যে গুরু দাঁড়ায় তাই !
যাই হোক ,আমাদের তখন ভাড়া বাড়ি
তখন যদিও
এই মহানগর কে এতটা কাছ থেকে দেখিনি
এখন দেখি বা বলি দেখার চোখ
এই শহরটাই দিয়েছে আমাকে !

যে সময়ের কথা বলছি
সেটা আজ থেকে
প্রায় ২০ বছর পিছনে !
মানচিত্রে দেখলে জায়গাটা
দিল্লি'র উত্তর প্রান্তে
কাছেই পায়ে হাঁটা দুরত্বে
বিশ্ববিখ্যাত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় !
তখন জানতাম না
আবিস্কারের সাল ২০১২
আমার দিল্লি প্রত্যাবর্তন !

জায়গাটা'র নাম তিমারপুর
প্রথম দিকে আমরা থাকতাম একটা
এক কামরার ঘর নিয়ে।
জানিনা তখন বি পী এল (BPL) কথাটা ছিলো কিনা
যদি থেকে থাকে তবে আমরা তাই ছিলাম !
একতলা বাড়ি সারি দিয়ে ৪টে সমান মাপের
কম-বেশি ১০/১২ ফুটের কামরা।
২টি সার্বজনীন শৌচালয় বরাদ্দ ছিলো
ব্যবহার করতো কম-বেশি ১৫-১৬ জন মানুষ
ঠিক পিছন দিকেই ছিলো একটা বড় রাস্তা !
যারা দিল্লি এসেছেন বা জানেন
যে দিল্লি'র রাস্তা বিশ্ববিখ্যাত
তার প্রশস্ত উদারতার জন্যে !
তখন আমি নার্সারিতে পড়ি
আমার ধারণা আমি আজও শৈশব হারাইনি
বা,বলা যায় হারাতে চাইনা।
আর যখন শিশু ছিলাম
সুকুমার রায় বেঁচে থাকলে "ডানপিটে ছেলে "টা
আমায় উত্সর্গ করতেন

বলাই যায় !..........(ক্রমশ )

-২৯.০৮.২০১৫

হাপিয়ে গেছি এত বড় লেখা যায় ..........:(