Saturday, March 19, 2016

মনটা ভালো নেই........

মনটা ভালো নেই
এই তো ক'টা দিন
আলোকবর্ষ
দৈর্ঘ্য যেমন
পেরোয় আলো নিমেষে !
এও তেমন
তোমার কাছে আসা !
মনটা ভালো নেই
একটা শুন্যতা
মরুময়
জীবনে মরিচিকা'র হানাহানি !
কাকে যেন খোঁজে দু'চোখ
মনটা ভালো নেই !
তোমার ছবি ভাসে
দুই চোখ আমার নিরুপায় !
লেখাটা মন্দ হয়না
শুধু আর ছন্দ পায়না !
কিছু ছেড়া শিকড়
জোড়া দেওয়ার আশায়
ভুলে যায় জল দিতে হয় !
অবাক করা তৃষ্ণা
যেমন সে চাতকের
তেমনি আকাশের !
মন তাকে মনে করেনা
তবু সে থাকে নীরবে !
অবাক হতে হয়
আজও যখন মন কেমন করে !
মনটা ভালো নেই
পূর্ণ বসন্তে
এ কেমন বর্ষা
ভাসে দু'চোখ
তবুও শুকনো মোহনা !
কিছুটা মাংস
প্রবহমান রক্ত
লাল অথবা নীল্ !
সব জেনেও
জরা এড়াতে পারিনা
যা কিছু অনিবার্য
মৃত্যু না হয় ক্লান্তি !
মনটা ভালো নেই
অভাবের সিড়ি বেয়ে
অভিযোগ পেরিয়ে
অনাহুত !
জর্জরিত
অবক্ষয়
তবুও হাসিমুখ !
"অভিনয়টা ভালো পারো"
ইচ্ছে হয়
আজ নিজেকে বলি !
দায় এড়ানো যায় না
জীবনের ক্ষয় থেমে যায় না !
ওরা সীমা'র কথা বলে
জানেনা কতখানি
অক্ষয় সম্পদ আছে সঞ্চিত
প্রতিটি শিশু
বইছে যে উত্তরাধিকার !
যা কিছু অনির্বান সঞ্চিত পৃথিবীতে
তোমার বুকেই সে সম্ভাবনা
হোক সঞ্চারিত তোমার গর্ভে
আবারও প্রাণ !
আজ এটুকুই থাক
মনটা ভালো নেই !-১৯.০৩.২০১৬

(জীবনী -৫৩)

Tuesday, February 23, 2016

তোমাকে বলি ,

"যেমন গাছ
তার তেমন ফল"

সর্বজন বিদিত প্রবাদ !

জীবনের প্রতি পদেই প্রতিফলন
প্রতিটি মানুষ অনুভব করে থাকে !
আমার অনুভুতি 'রা
মাত্রা ছাড়ায়
তারা ভাবায়
তাই আমি কবি /লেখক !

সংকীর্ণতাদের একটা আকাশ থাকে
আমরা ভিন্ন বেশ ভূষায় অলংকৃত করি
আমাদের বাহ্য রূপ !
ইদানীং আমাকে ভাবায়
অনেক কথা
বিশেষ করে যখন ভাবি
মানুষে মানুষে বিভেদের কথা !
কি এর কারণ
প্রথমেই আসি
সব থেকে বড় বিভেদ
না জাতি নয়
দেশ কালের সীমা নয় !
তার থেকে বড়
একটা সংকীর্ণ বিভেদ
যাকে কেন্দ্র করেই
এই আকাশের বিস্তৃতি সীমা ছাড়ায় !
লিঙ্গ বিভেদ
নারী পুরুষের বৈষম্য !

আমার মা বাবা'র সম্পর্ক নেই
শারীরিক
মানসিক আছে !
আমার উপলব্ধি
বিতর্কের আলোকবর্ষ অবকাশ রাখে !
আজ লিঙ্গ ভেদ নিয়ে ভাবলে
মনে হয় তাদের স্বাধীন সত্তার কথা !
অবশ্যই ,
সে স্বাধীন সত্তা উত্তরাধিকারে আমি পেয়েছি !
তাই সম্পর্ক কে বন্ধন নয়
আমি দেখি আকাশ হিসেবে !

তোমাকে বলি ,
যেখানেই থাকো
যেই হও তুমি
একটাই অনুরোধ
বন্দী হয়ো না
স্বাধীন হয়ো
আমার আকাশে ! - ২৩.০২.২০১৬

(জীবনী -৫২ )

Wednesday, February 17, 2016

কাঁটাতার

মাঝে খুব শরীর কেন্দ্রিক
হয়ে গেছিলাম
তোমায় পেয়ে আবারও
কবি হয়ে উঠছি !
সাক্ষী থেকো
হোক অবিনশ্বর
তোমার আমার মিলন !
থেমে থাকবে না বসন্ত
কুহু ডাক মিশে যাবে
অনন্ত শুন্যে !
তবুও তুমি থেকে যাবে
জন্ম নেবে কবিতা
তোমার গর্ভে !
ও'র চোখে ইতিহাস হয়ে ফুটবে
তোমার অনুরাগ !
দেশ -কাল -ধর্ম
বিবাদ থাকবে না !
তোমার স্মৃতি
যে বুকে অলংকার
সে মন আয়ুহীন !
তুমি যদি পাশে থাকো
আবারও
বোনা হবে নকশী কাঁথা !
আমার হিন্দু শরীর কবর যাবে
তোমার দেশের মাটিতে !
দু'টি মন কে বাঁধবে
কোথায় সে কাঁটাতার ? -১৭.০২.২০১৬

(জীবনী -৫১)

Sunday, February 14, 2016

```রুক্ষ বসন্ত......

জীবন যদি
একটা ঘূর্ণি হয়
আমি তাতে মূল চরিত্র !
আর ঘুর্নিতে ফিরে ফিরে আসা
বিভিন্ন মুহুর্তের সমাহার
আমার জীবনের মুহূর্ত গুলো !

আমি কে ?
আমি পুত্র
আমি পাত্র
আমি পুরুষ
আমি প্রেমিক !

শেষ পরিচয়ে আমি প্রেমিক
সবাই তাই হয় !
সময় লাগে বুঝতে
সময় লাগে অনুভব করতে
অনুভুতি'র শেষে একটা অন্ধকার রাত
যার ওপারে
অপেক্ষায় সূর্য ওঠা সকাল !

সহস্র প্রেমিকা সাক্ষী
আমার পূর্ণ যৌবনের জীবন
১২ থেকে ৭২ কেউ নয় বাদ !
বিলিয়ে দেওয়া চোখ
হাত পেতে নিয়েছি
আমার অপূর্ণতা কে পূর্ণতা দিতে চেয়েছি !
বুঝিনি জীবনের ধর্ম
প্রেম কেবল সময়ের নিয়মে
অনিয়মিত যা কিছু
স্মৃতি ও সঞ্চয় !

ক্ষয় পেয়েছে অঙ্গীকার
ভয় এখন অভিমানের অপর নাম
চোখে জলের স্থান নিয়েছে মরীচিকা !
আমি আর তোমায় খুঁজিনা
তুমি কথাটাই মিথ্যা
তুমি কিছু হয়না
সত্যি একটাই
কবি ও তার সাগর
কারণ ,
কবি'র চোখে জল এলে
সাগর শুকায়ে যাবে লজ্জায় !

প্রেমিকা বাস্তব খুঁজলে
রবি ঠাকুরের জায়গা নিতে পারি
কল্পনার থেকে
বাস্তবের রুক্ষ বসন্ত শ্রেয় ! - ১৪.০২.২০১৬

(জীবনী -৫০)

Tuesday, February 9, 2016

মানবিকতার শিক্ষা

জীবনী'র পাতায়
আজ লিখি কিছু
পার্শ্বচরিত্রের কথা !

কারণ তারা জীবনের মূলস্রোতের অঙ্গ নয়
কিন্তু তাদের ছাপ রয়ে গেছে
অনিবার্য ভাবে !

আমার ছোটবেলা জুড়ে এমন অনেক মানুষের কথা
বলতে পারি
যারা চেতনে বা অবচেতনে
অঙ্গ হয়ে গেছিলো !

প্রথমেই বলতে হয়
সীতা মাসি'র কথা
আমাদের বাড়িতে এনা'র আগমন
দিদা'র দেখাশুনা
তথা গার্হস্থ্য কাজের সুত্রে !
এই সীতা মাসি'র এক ছেলে
স্বামী ছেড়ে চলে যায়
এক মেয়েও বোধ হয় ছিল
ভালো মনে নেই
ছেলেটার নাম সুভাষ
খুব ভালো ফুটবল খেলতো
লেখা পড়ার তেমন সুযোগ হয়নি !
আমার ছোটবেলা থেকেই উদারপন্থা
পারিবারিক সুত্রে পেয়েছিলাম
ক্রমেই দেখলাম
আমি দাদা ও'র সাথে খেলতে যতই
স্বচ্ছন্দ ছিলাম
অন্যেরা ওকে এড়িয়ে যেতো !
কারণ ,সামাজিক স্তর বিভাগ
ও যে ঝিয়ের ছেলে !
আমি তো ও'র মা কে মাসি বলে ডাকতাম
একসাথে বসে ভাতও খেয়েছি
এই মানবিকতার শিক্ষা টুকু
আমার পরিবার আমাকে দিয়েছে
অশেষ কৃতজ্ঞ  
আমি সেই পরিবাব্রের কাছে
রিক্ত জীবন
অনুরক্ত তোমাদের ঋণে !

ও'রা ভালোবাসা'র কথা বলে
আমি বলি
সাগরের ঢেউ কি গোনা যায় ?-০৯.০২.২০১৬

(জীবনী -৪৯)

Sunday, February 7, 2016

প্রেম একবারই এসেছিলো

ঠিক আর পাঁচটা
ছেলের মতো হোবো !
এ বাসনার মোহ
কোনদিনও আমায় পায়নি  !
নিজস্ব সত্তায়
চিরদিনই
আমি ডুবুরি !
কতই প্রশ্ন
নিত্য ধুমকেতুরই মতো
চোখের সামনে জ্বলে নিভে যায় !
সেই ছোটবেলা থেকেই
অনুভব করে চলছি !
নাবালক থেকে সাবালক
হওয়ার বৃথা চেষ্টা

সময়ের ষড়যন্ত্র মিলে
আজ আমি ২৭ মুখী জীবন !
তা এই ২৬-এর জীবনে
অনেকে ইদানিং আমার
পৌরুষ পরীক্ষা -প্রমান চায় !
এ লেখা তাদের -কে উত্সর্গ

আমি সাধারণ ছিলাম
প্রতিভা বলতে মধ্যবিত্ত মাধ্যাকর্ষণ
পেট থাকলে ক্ষিদে ও তার সংস্থান !
উপযুক্ত শিক্ষা বোঝাই
ও দাসত্বের বিনীত জীবন !
সবটাই পরিকল্পিত
তাই হয়
যখন জীবন
অনুদানের জীবন !
আমার অন্তত: তাই ছিলো

দ্বন্দ দোলাচল ;চাহিদা ও চয়নের
যে হিসাব কোনদিনই মেলার নয়
এক্ষেত্রেও প্রেমটা শুভদৃষ্টিতে আটকা ছিলোনা !
তবে ছিলো এক অন্য মাত্রা
ধ্বংসের স্পৃহা নয় এনেছিলো সৃষ্টি চেতনা
তারই অবদান
যাকে "কবি" বলো
যা হওয়ার তা হবে কিন্তু ,
হওয়াটা বিধি'র শর্তে
প্রেম একবারই এসেছিলো জীবনে
পরেরগুলো চাহিদা
পাক্ষিক বা দ্বিপাক্ষিক
মাসিকের মতই নিয়মিত !

গত ১৪ ই মাঘ তার সিঁথি রাঙ্গা হলো
আমি দেখলাম
আমার প্রেম -কে পূর্ণতা পেতে !

সেদিনও পারিনি
আজও পারবোনা
কিন্তু ,শেষটা যে অনিবার্য
প্রেম একবারই এসেছিলো !- ০৭.০২.২০১৬

(জীবনী -৪৮)

Friday, February 5, 2016

জীবনের হিসাব

এই আজকের দিন
সালটা ২০০৪
আমাদের ঘরের চৌকাঠে
নেমে এলো
অমোঘ
মৃত্যু রথ
যাত্রী
আমার দাদু
শ্রীযুক্ত ভূপেশ চন্দ্র দাস !

ইহজীবনের ইতি
দীর্ঘ ৫ বছরের
রোগশয্যা থেকে মুক্ত
মানুষটা !
মানুষ মাত্রেই কর্ম বন্ধনে বাঁধা
কৃতকর্মের ফল পেতে হয় সকল কে !
বিচার করার অধিকার আমার নয়
তাই আলোচনা ও বিতর্ক
দুইয়ের থেকেই বিমুখ আমার
নির্লিপ্ত জীবন !

যন্ত্রণা দিলে যন্ত্রণা পেতে হয়
সংযম চিরদিন
গৃহবন্দী থাকে না !
জীবনী লেখার
বহু আগেই যখন
অনামিকা (http://nirbashito.blogspot.in/)
লেখা শুরু করেছিলাম
কম-বেশি ৩ বছর পিছনে
এক জায়গায় লেখা একটি কথা
প্রাসঙ্গিক বলেই বলছি

"জীবন ছোট
দিতে দ্বিধা কোরো না ;
যা দেবে
তাই সে ফিরিয়ে দেবে !"-০৫.০২.২০১৬

(জীবনী -৪৭)

Tuesday, February 2, 2016

তিমিরের ভাষা

আমার চোখে জীবন
এ এক অন্য দর্শন
অসুম্পুর্ণটাই দস্তুর !
তৃষ্ণার জন্যে বুক
নাকি
বুকের জন্যে তৃষ্ণা !

শিশু মন না জানি কবেই
বড় হয়ে যায় অজান্তে !
এই সকল
সম্পর্কের
উত্থান পতন
সেই কম বয়স থেকেই
অনিবার্য করে দিয়েছিলো !
প্রানোচ্ছল ছেলেটা কে
কবি করে তুলেছিলো !
আমার প্রথম কবিতা লেখা
১০ বছর বয়েসে !
যদিও তাকে কবিতা বলা যায় কিনা
বিতর্কের বিষয় !
সাধারণত:
কবিতা সুন্দর মনের ফসল
কিন্তু সেই কম বয়েস থেকে
এতো ভাঙ্গা গড়া
অনিবার্য ভাবেই গুড়িয়ে দিয়েছিলো
শিশু মন -কে !

অপ্রত্যাশিত
এ অকালবার্ধক্য
নিরুপায় জীবন !
স্রোতে বয়ে যায়
কালের নিয়মে !
ও'রা নিরীহ
যারা দোষারোপ করে !
অভিলিপ্সা সময়ের দান
তথা
তিমিরের ভাষা শুন্যতা জানে ! - ০২.০২.২০১৬

(জীবনী -৪৬)

Monday, February 1, 2016

পুনরাবৃত্তি.....

কালের নিয়ম
পূর্ণ বা অপূর্ণ !
কিছুটা বেহিসাবী 
শেষ'টা অনিবার্য !
পথ চলা 
জানিনা গন্তব্য !

এভাবেই শুরু হলো 
অপ্রত্যাশিত মামাবাড়ি জীবন !
যখন আমরা গেছি দীদা অসুস্থ 
যদিও সেটা যথেষ্ট 
নতুন কথা নয় !
চোখের ছানি কাটা হয়েছে সদ্য 
হঠাত আমাদের আগমনে 
আনন্দিত হলেও
ক্রমশ : সত্য উদঘাটন 
ও সেই মানুষ'টা 
যে জীবনের সমস্ত প্রতিকুলতা কে 
হাসি মুখে মেনে নিয়েছিলো 
সে পারেনি মেনে নিতে !

আমরা তখন ছোট 
তাই বাঁদরামো'র মাপকাঠি ছিল  না !
আমাদের ঘরে তখন দুটো হাড়ি 
একদিকে দাদু বড় মামা 
অন্যদিকে দীদা ছোট মামা !
এর ইতিহাসেও আলোকপাত করবো 
তবে এখন নয় !
মূল কথা দাদু-দীদা 'র সম্পর্ক 
কোনোদিনও প্রকৃত পূর্ণতা পায়নি 
অন্তত : তাদের জীবদ্দশায় !

ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে 
এও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি !
শুধু জীবন 'গুলো দিশা খোঁজে 
রাত হাতড়ায় স্বপ্ন !
আমিও সেই পথের পথিক 
শেষ নেই যার 
তুমিও চলো 
আমিও চলি 
জীবন নদী 'র 
মোহনাহীন পারাবার ! - ০১.০২.২০১৬

(জীবনী -৪৫)

Friday, January 29, 2016

অন্য কবি

অনেকদিন ইন্টেলেকচুয়াল
আঁতলামো করিনা
বকলমে কবিতা লিখিনা
ছেড়ে গেছে নৌকা
পাল তোলা হয়নি !
আজ ও'র বিয়ে
ঠিক ভুল জানিনা
সাংকেতিক রূপক ধরে নিলাম
সকাল সকাল
ফোনে রাজকন্যে কাহন !
অন্যজন আমায় নারীবাদী হতে
উত্সাহিত করে গেলেন
তা এই সব মিলিয়ে যা দাঁড়ায়
জন্মে পুরুষ হলেও
কর্মে পুরুষ আজও
হয়ে উঠিনি !

সহবাসের সুখ
দিগন্তের মতই ফেনিল স্বপ্ন !
ভাঙ্গা ভাঙ্গা কলিজা'গুলো
কোলাজ হতে শেখেনি !
পৌরুষের সংজ্ঞা বুঝতে
পৌষ মাস -এ বিবস্ত্র কবি !
চোখে নীল্ বিষ বয়
তবু সম্পর্কের সম্মান রাখতে
নির্বাক মা -দিদি বা বোন্ !

কল্পনাপ্রবন তোমাদের ভুল
বাস্তবের থেকে আলোকবর্ষ দুরে
যারা জীবনের কল্পনা করে
সেই সব অসহায় মানুষদের নিয়ে
আমার জীবন !

প্রসঙ্গে ফিরি
শুভেচ্ছা রইলো আমার
আশীর্বাদ থাক সবার
চিরসুখী হোক বিবাহিত জীবন !

আজ অতীত কে বিদায়
আজ থেকে শুরু অন্য জন্ম
আজ থেকে আমি
অন্য কবি !!!-২৯.০১.২০১৬

(জীবনী -৪৪)

Tuesday, January 26, 2016

আমি যে আমি নই.....

মামাবাড়ি মানেই
দিশেহারা আনন্দ 
আমারও তাই ছিলো !
যতদিন সেটা ঘুরতে আসার জায়গা ছিলো 
কিন্তু সেই মামাবাড়ি'টাই
চোখের সামনে কেমন যেন বদলে গেল 
বোঝার অনেক আগেই !

বাস্তবের মুখোমুখি 
সেদিন থেকেই নিজের খোঁজ শুরু !
যদিও খোঁজ
তার হাতে খড়ি পেয়েছিলো 
অনেক আগেই !
তবে এ যেন তার 
সিলমোহর শুরু !

আমি কে ?
এই একটা প্রশ্ন 
ভাবিয়ে চলেছে সেই জ্ঞান উদয় হওয়া থেকে !
অনেক জ্ঞানের বই পড়েও 
যার উত্তর পাওয়া যায়না !
হয়তো গোটা পৃথিবী ঘোরা হলেও 
সম্ভব নয় !

যারা বিশ্বাস ভাঙ্গে 
সম্পর্কের অসম্মান যারা করে 
তাদের কে মনুষত্বের অবমাননা ছাড়া 
আর কোনো গণনায় আনা যায় 
জানা নেই আমার !

আমার জীবন এমনি কিছু মানুষে সমৃদ্ধ 
তবে শুধু তারাই নয় 
এ মাটির পৃথিবীতে দেবতা'র মূর্তিও
সাক্ষাতে পেয়েছি !
দেব রুপী  যিশু
ও দানব রুপী খ্রিস্ট 
দুইয়ের সমাহার তাই আমার মাঝে !
যতটাই আমি শীতল,নীরব,নিরীহ 
ক্ষেত্র বিশেষে নিষ্ঠুরতার সীমা সীমাহীন !
 আমি যে আমি নই 
আমার খোঁজে আমি 
আমার মধ্যে আকাশ নদী 
তাদের মাঝে আমি ! - ২৬.০১.২০১৬

(জীবনী -৪৩)

Sunday, January 24, 2016

সময়ের অভিজ্ঞান

সালটা ১৯৯৯
দিনটা ৫'ই আগস্ট 
অভিনয় শেষে বাস্তবের মুখোমুখি 
ক'টা জীবন !

যারা যুদ্ধ করে 
তারা হারতে শেখেনি 
আমার পূর্বপুরুষের ইতিহাস সেরকমই !
তারা যে যেমনি হোক 
সামাজিক প্রতিষ্ঠান -কে 
মান্য করেই চলেছে !
সেই অচলায়াতন-এর প্রাচীরে 
এই প্রথম ফাটল ধরলো !

মা শেষ মেষ বাবা'র থেকে দুরে 
আমাদের নিয়ে আমাদের মামাবাড়ি !
ক্লাস থ্রি শেষ করে আমি সবে ক্লাস ফোর 
দাদা আমার থেকে এক বছরের বড় 
ভাই তখন হাতে গোনা 
১০ মাসের জীবন !

আজ যখন পিছন ফিরে তাকাই 
অবাক হতেই হয় 
সেই মায়ের দুঃসাহস কে
কারণ মা সেদিন যা করেছিলো 
সেটা মা বলেই সম্ভব !

সম্পর্কের উত্থান পতন 
কেউ কাছে কেউ দুরে !
কিন্তু 
অস্তিত্ব্যের সেই সংকট দিনে 
যে হাত ধরেছিলো 
সে মা !
আমাকে কাছ থেকে জানা'র চেষ্টা করেছে ,
করছে বা করবে 
তাদের এই পরিপ্রেক্ষিতে 
বলতে ইচ্ছা করে 
আমায় ভুল বুঝোনা 
আমি কাউকে ঘৃনা করিনা !
বিচারক আমি নই 
সময় 
আর আমার অভিজ্ঞান 
আমাকে সময় দিয়েছে !
তাই আমার কাছে মা 'ই সব 
পিতা'র প্রয়োজন এক সময় বোধ হতো 
কালক্রমে এখন আর হয়না !

আমি ভালো আছি 
তুমিও ভালো থেকো 
ভালো থেকো তোমরা !-২৪.০১.২০১৬

(জীবনী-৪২) 

Saturday, January 23, 2016

স্মৃতি জুড়ে সুপ্রভা ........

সুখ দুঃখ নিয়ে মানুষের জীবন
সব থেকে কঠিন লড়াই
নিজের আবেগের কাছে
প্রতিপন্ন পরাজয় !
মানুষ ভুল বোঝে
বোঝাটাই দস্তুর
ঠিক বুঝতে গেলে
ঠিক হতে হয়
আপোস করতে করতে
মানুষ ভুলে যায়
সে মানুষ ;ঈশ্বর নয় !
তারপর অনিবার্য ক্ষয়
নিয়ম বেয়ে
শীতল মৃত্যু !

আজ আমার জীবনী 'র কেন্দ্রে দীদা
আমার দিদিমা তথা মায়ের মা
একজন প্রকৃত
নিষ্ঠাবান স্ত্রী
স্নেহশীলা জননী
নিপুন গৃহিনী
তদুপুরি
অমর শিল্পী !

মৃত্যু নশ্বরতার ধ্বজাধারী
স্মৃতি অমরত্বের অবকাশ রাখে !
আমি এমনি একজন গুনগ্রাহী
মানুষ নয়
তার মধ্যেকার ঐশ্বরিক প্রকাশ
তার শিল্প কর্ম
যার উদ্দেশ্যে এ লেখা
কেননা তারই কিছু লেখা
তাকেই ফিরিয়ে দেওয়া.......

আমার জন্ম সাক্ষী
তার এই দুটি সৃষ্টি কর্ম !

"যতনে রোপিনু যে কুসুম তরু
আমারে দিল না ছায়া
খর রবিকর শুধুই জীবনে
দেখালো মরিচি মায়া
ডালে ডালে তার ফুটিয়াছে কলি
তারা কি দেবেনা গন্ধ
একটি দুয়ার রবে নাকি খোলা
সব দ্বার হলে বন্ধ !"  - সুপ্রভা দাস

"এ ক্ষুদ্র হৃদয় মাঝে
অনন্ত পিপাসা
মিটে নাই মিটিল না
মিটিবে না আশা !" - সুপ্রভা দাস

তোমাকে জানাই প্রনাম !-২৩.০১.২০১৬

প্রসঙ্গত আজ তার মৃত্যুদিন :-২৩.০১.২০০০

Thursday, January 21, 2016

"আমি " মূলক

অচেনা
তবুও জানতে চাই 
শেষ নেই জানা'র 
তাই বোঝা'র আপ্রাণ চেষ্টা !

ক্ষুদ্র বুক ও তার তেষ্টা 

আমি চাই 
জীবনী হোক "আমি" কেন্দ্রিক !
কেন কারও ব্যক্তিগত'র সাথে 
নিজের সীমিত সীমা -কে মেশাবো !

সীমা 
তাই সে সীমিত
আমিও তাই 
জীবন -কে বাঁধার বৃথা চেষ্টা !
জানি ধরা সে দেবে না 
তবুও বৃথা আশা'র আমৃত্যু 
অপমৃত্যু !

নির্জীবের মতো 
মৃত্যুহীন 
তবুও কতো স্বপ্ন !

বর্ণহীন ক্যানভাস 
রং দিতে গেলে 
শিরায় উপশিরায় 
কেমন যেন শীতল স্রোত !
মেরুকরণ 
চলে আসছে 
এভাবেই চলবে 
তাই আশা
আমার জীবনী 
যেন হয় 
"আমি " মূলক !-২১.০১.২০১৬

(জীবনী -৪০)

Wednesday, January 20, 2016

স্বাধীন মনন

কবিতা মানেই বসন্ত
(অন্যের ধারনায় )

কিন্তু আমার কবিতা
জীবন লেখে
কখনও কলমে কখনও
বকলমে !

ইচ্ছে উপায় পায়না
মন তখন আকাশ খুঁজে নেয় !
আমার আকাশ
আমার কলমে
সেই ছোট বেলা থেকেই
সব কিছু ধরে রাখার ব্যর্থ অভিপ্রায়
আজ আমাকে লেখক করে তুলেছে !

যখন ছোট ছিলাম
ভাবতাম ,
কিভাবে একটা মানুষ বড় হতে পারে
ইচ্ছে ছিলো
যেন আমি চিরদিন ছোট'ই থেকে যাই !
থেকেই গেছি
উদ্ভট
কিছু করার সুপ্ত বাসনা
অথবা
অজানা কে জানা
বা
অজেয় কে জয় করা
নিয়ম ভাঙাই দস্তুর
আমার জীবনের একমাত্র ধ্রুব সত্য !

সেই সত্যের পথে চলতে গিয়ে
মূল্য দিতে হয়
সম্পর্ক-সময়-স্বাধীনতা
পেতে গেলে হারাতে হয় !

ব্যক্তি স্বাধীনতা
আমার কাছে
স্বাধীন মনন
মুক্ত চিন্তা'র অবকাশ যেখানে
সৃষ্টি সেখানে অফুরান ! -২০.০১.২০১৬

(জীবনী - ৩৯ )

Sunday, January 17, 2016

ভোজন রসিক

রক্তের ইতিহাস লেখা
এ এক অন্য অনুভূতি
ভাবনা'রা কাল বিলম্ব করেনা
চোখ জল
মন আকাশ !

জীবনী'র পাতা
নিজের চোখে নিজেকে দেখা
ভুল ত্রুটি থাকবে
মানুষ অমর নয়
নয় তার ত্রুটি
সময় সাজিয়ে নেবে
মানিয়ে নেবে আপোসে !

আজ কিছু কথা
আমার সব থেকে
বড় দুর্বলতা নিয়ে !
সব মানুষের দুর্বলতা থেকে থাকে
আমারও আছে !
আমি খেতে খুব ভালোবাসি
এক কথায় ভোজন রসিক !
ধর্ম-কর্ম আমার নয়
মন্দ হতো না যদি মুসলিম হতাম !
অন্তত যারা আমার খাদ্যাভ্যাস
সম্পর্কে অবহিত তারা জানেন !
জন্মে বাঙালি
তদুপরি জেতে ব্রাহ্মন
প্রসঙ্গত আমি পৈতা ধারী নই !

শাক-সবজি একরকম ছুইনা
বলা যায়
হাড় গুড়ো করেই খাই ! 
যখন ছোট ছিলাম 
ঝামেলা পাকাতো মাছের কাঁটা 
একেই বিস্বাদ (তখন মনে হতো ) !
তায় কাঁটা উপদ্রব 
মিলেমিশে একাকার দুর্ভোগ !
তবে শুধু মাছ নয়
আমার বয়কট তালিকায়
আরও বেশ কিছু খাদ্য দ্রব্য
নথিভুক্ত ছিলো !

সময় বয়ে চলে
স্রোত মেশে মোহনায়
জীবন মাঝি'র বৈঠা
তুই কার ;কে তর !-১৭.০১.২০১৬


Friday, January 8, 2016

গেরুয়া

গেরুয়া -
আমার মনসকন্যা ;তবে প্রথম নয় দ্বিতীয় !আমার প্রথম কন্যা সম্পুর্ণা ,জন্ম সাল ২০১৩।আমার প্রথম স্ত্রীর সাথে আমার মিলন। কোনো সৃষ্টি অবান্তর নয় কারণ থেকে থাকে ;ওদের নামকরণের মূলেও তাই !সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা পায়নি তাই আমি একা !সদ্যই গেরুয়া'র মা আমায় ছেড়ে গেলেন প্রতিষ্ঠানের বাইরে গড়ে ওঠা সম্পর্ক পূর্ণতা পেতে নেই !পরিচয় চেয়েছিলাম ;আমি যে পুরুষ প্রকৃতির দাসানুদাস। মনে পড়ে বাবা'র কথা ,বাবাও সেদিন এতোটাই দুর্বল ছিলেন আমরা ফিরে তাকাইনি চলে এসেছিলাম ফেলে। বুঝিনি সেদিন ,একদিন সে গ্লানি আমাদেরও গ্রাস করবে; গ্রাস করবে তার তিন সন্তানের মধ্যে তার প্রিয় সন্তান-কে !

আজ এভাবেই ,পুরোনো দিনের কথা সব মনে আসছে যেন একটা খোলা আকাশের নিচে ধু-ধু প্রান্তর তারই মাঝে আমি একা। ওরা আমায় ছেড়ে গেলো জীবনের স্বার্থে মেনে নিয়েছি ব্যক্তি স্বাধীনতা অপরিহার্য !কিন্তু,এ সৃষ্টির সত্ত্ব কে নেবে ?পুনর্জন্মের দোহাই এ জন্মে না হয় অন্য কোথাও ;অন্য কোনোওখানে ,নাকি সত্যই এ বিধি'র বিধান ; একক পিতৃত্বই কী  ভবিতব্য ?সম্পর্কের সন্ধানে আর কতোদিন ? সময়ের সঞ্চয় বা কতটুকু ? ঠিক কোন উপাদান কি মাত্রায় হলে একটা সংসার গড়ে ওঠে ?

এমনই ,অজস্র প্রশ্ন আজ মনের আকাশ জুড়ে !,যন্ত্রণাবিদীর্ণ নিরুপায় শুধু ওদের মুখ চেয়ে আছি !কি উত্তর দেবো ;নাকি একদিন বাবা 'র মতোই হবো ; নিরুত্তাপ -নিরুদ্বেগ -নিশ্চল ,তার প্রিয় সন্তান ছিলাম যে ! জানিনা কিভাবে সদ্যজাত গেরুয়া -কে বড়ো করবো ;সম্পুর্ণা কালচক্রে তিনের দোরগোড়ায় ,গেরুয়া হতভাগী জন্মে মাত্র মা হারালো !-০৭.০১.২০১৬

Tuesday, January 5, 2016

বাংলা শেখা

ক্লান্তির জীবনে শ্রান্ত জীবন
বাঁধা গতে
তাও কিনা একটা জীবন !

এভাবেই দেখি আমি
ঠিক বা ভুল !

অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে 
শেষ মেষ বাংলা শেখা হলো !
যদিও আদৌ কতটা শিখলাম 
প্রশ্নটা থেকে যায় 
বা বলি হাতে খড়ি 
সারা হয়েছে এতদিনে !
বেশ ইতিহাস -ভূগোল -অঙ্ক -বিজ্ঞান 
সব মিলিয়ে বাংলা শেখা 'র সীমা 
একদিন এসে দাড়ালো
আনন্দ বাজার পত্রিকায় !
একটা ঘটনার কথা এখানে বলা যায় 
আমার দাদা চিরদিনই 
শিষ্টাচারের মূর্তি !
সেদিন রবিবার 
খবরের কাগজটা সবে দিয়ে গেছে 
ছোট মামা দাদা কে ডাকলো 
আমিও যেমন নতুন শিখেছি 
দাদাও তাই !
তা মামা দাদা কে জিগেস করে 
"রবিবাসরীয়" লেখাটা উচ্চারণ করতে !
লেখাটা বেশ শিল্প সমৃদ্ধ 
অবধারিত ভাবেই দাদা পারলো না উচ্চারণ টা !
শিক্ষা ব্যবস্থার এহেন পুকুর চুরি 
উত্তম মধ্যম বর্ষণ !
আমি ততক্ষণে তটস্থ 
সঙ্গে সঙ্গে গতকালের "পত্রিকা "
লেখার পাঠ উদ্ধারে সক্ষম হয়ে 
নিজেকে বেশ দিগ্বিজয়ী অনুভব হলো !
যদিও সেদিন আমাকে অপ্রস্তুতে পড়তে হয়নি 
তবে এমন অনেক ছোট খাটো ঘটনার সমাহার 
আমার ছেলেবেলা !

টুকরো টুকরো কথা 
ভাঙ্গা ভাঙ্গা স্মৃতি !
"পুরোনো সেই দিনের কথা 
সে কি ভোলা যায় !" -০৫.০১.২০১৬

Sunday, January 3, 2016

পিছুটান

পিছুটান অনেক
তবুও এগিয়ে যাওয়া 
এটাই জীবন !

পিছুটান 
আছে, ছিলো .থাকবে
বুক পেতে দিলেও 
চোখ বেয়ে জল নামে 
নিরুপায় পথ চলা 
একদিন অনিবার্য বিদায় 
পুনর্জন্মে বিশ্বাস রাখলে 
আবারও ফিরে আসা 
অবশ্যই তা চির অবারিত দুয়ার !

আমাদের দিল্লি ছাড়ার পর 
অন্য সব দুর্যোগের 
মাঝেও বিভীষিকা ছিলো 
আমার কাছে বাংলা শেখা !
অবাক হবেন হয়তো 
তবে এটা সত্যি !
আমার বাংলা শেখা'র শুরু 
সাল ১৯৯৯
জন্মের পর দশ বছর কাটিয়েছে 
বেশ হিন্দি ইংরেজি মিলিয়ে !
কোত্থেকে এসে জুটলো আপদ 
"বাংলা "!
ফাকিবাজ আমি বরাবর 
তারপর বন্য পাখি 
খাচায় বন্দী !
ঘরের সকলেই যখন 
হাল ছেড়ে দিয়েছে
শেষ মেষ দীদা আমায় নিয়ে বসলেন !
কিন্তু ,ক্ষ্যাপা কে বোঝায় কে 
শেষ মেষ ছোট মামা 'র হস্তক্ষেপ 
"যেমন বুনো ওল তেমনি বাঘা তেতুল " 
"ধর তক্তা মার পেরেক "
চললো বাংলা শেখা 
তবে শুধু শেখা নয় 
অতি শীগ্রই আমার শিক্ষা ফলপ্রসু হলো 
যখন আমি ক্লাস ৫-এ প্রথম বাংলা মাধ্যমে 
পড়া শুরু করলাম !
বলতে দ্বিধা নেই 
সবাই কে অবাক করে অন্তত 
বাংলায় আমি ছিলাম 
অদ্বিতীয় প্রতিদ্বন্দী তথাকথিত 
স্থানাধিকারীদের কাছে !

ফিরে ফিরে আসা 
কক্ষপথ বাঁধা !
তবুও একদিন অচিন পাখি 
পাবেই তার আকাশ । - ০৩.০১.২০১৬

(জীবনী - ৩৫)