Saturday, October 24, 2015

প্রশ্ন টা থেকে যায়....

দানা পেলে
যেমন পায়রা জড়ো হয়
অবসরে তেমনি স্মৃতি 'রা !

হাতছানি ফেরানো যায়না 
একলা জীবন শেষ খোঁজে 
কখনও বা
এক নতুন সকাল !
কিন্তু,কিভাবে 
প্রশ্ন টা থেকে যায়..........
আজ বলি 
শেষের সেই দিনের কথা 
সব উত্থান পতন পেরিয়ে 
যখন নিশ্চিত 
বিচ্ছেদ 
আমার শৈশবের ইতি তে 
অকাল বার্ধক্যের শঙ্খ বাজছে !

দিন'টা যদিও
অন্যদিনের মতই ছিলো !
কিন্তু শেষ টা কেন জানিনা 
চিরদিন অপ্রত্যাশিত থেকে যায় !
না চাইলেও 
একটা প্রানবন্ত মানুষ 
লেখে কবিতা 
তার জীবনে প্রেম আসে 
বা বলি আসে 
দর্শনার্থী 
যেন কোনো এক পুণ্য পিপাসু 
পায় তার অভিষ্ঠ ! 

যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম 
সেটা ছিল চার'তলা ;
আমরা নিচের তলায় 
সব যখন নিশ্চিত 
সকাল থেকেই সেদিন 
পাওনাদারদের ডাকা হয়েছিলো 
যার যা বকেয়া
ঘরের জিনিস বিলিয়ে নিলামী !
সকাল ১১টায় তখন পুর্ভা নাম হয়নি 
ডিলাক্স বলেই জানতাম !
ঘরের সামনে ট্যাক্সি এলো 
আসার আগে মা বলেছিলো 
বাবা কে প্রনাম করে আসতে 
গেছিলাম 
বাবা'র চোখে জল 
কোনো কথা মুখ ফুটে বলেনি !
(
ক্রমশ :
জীবনী -২৮
)
-২৪.১০.২০১৫

Sunday, October 18, 2015

আদিম নেশা

চাহিদা নয় 
শেষ হওয়ার 
সময় তাইতো সীমিত !
ক্ষুদ্র গন্ডি 
ক্ষুদ্রতর তোমাকে চেয়ে 
আদিম নেশা 
তোমায় ভালোবাসা !

জীবনের কথা 
জন্ম ছোট শহরে 
চোখ ফোটা মহানগরে 
জীবন কে কোনোদিন 
সীমা'র মাঝে বাঁধিনি 
ভেঙ্গেছি কেবল গন্ডি !

ধাপে ধাপে 
ক্ষয় হতে দেখেছি
সাজানো সংসার ভেঙ্গেছে ! 
আমার কল্পনায় 
তাই 
পরিবার আসেনা !
ভাঙ্গা কাঁচ জোড়া লাগে না 
মানুষের মন ও তাই 
একটা প্রলেপ যা সাময়িক 
একটি ভরসা;মেকি হাসিমুখ !
অন্তর্দহনে বিবেকদংশনে 
চিতার প্রয়োজন হয়না !

সমাজ 
যে সঙ্গ দেয়
নাকি 
সে যে কেড়ে নেয় 
সামান্য আশা 'র আলোটুকু !

মা কে দেখেছি সিন্দুর মুছে দিতে 
আজ আমার জীবনেও কতই প্রেমিকা 
মোটা ভাত ;মোটা কাপড় 
চাহিদা কাকে বলে ?
গবেষণা'র দাবি রাখে !

এমনিভাবেই ফুরিয়ে যায় 
জীবন 
শেষের কবিতায় 
একদিন হয়তো কবি প্রস্তাব দেবে 
মৃত প্রেমিকা'র সিন্দুরী কপালের 
কথা ভেবে 
সদ্য যুবতী প্রেমিকাকে 
প্রেম নিবেদন করবে কবি !
(
ক্রমশ :
জীবনী-২৭
)
-১৮.১০.২০১৫

Saturday, October 17, 2015

বিরতি 'র পর

এক দীর্ঘ বিরতি
জীবন শুষে নেয়
সমস্ত সঞ্চয় !
নিঃশ্বাস কে
মনে হয় শত্রু
পেতে চায় যত
ততই হারিয়ে যায় !
এই টানাপোড়েন
জীবন এগিয়ে যায় !

অনেক ভালো মন্দ স্মৃতি জড়িত
ছোটবেলা
মনে হতো এক সময়
যেন কখনও
বড় না হই !
কিন্তু জীবন
থেমে থাকলো না
আমি বাড়তে থাকলাম
ধাপে ধাপে !
প্রথম ইস্কুলে যাওয়া
প্রথম নামতা মুখস্থ
প্রথম হাতে খড়ি !
শেষ সঞ্চয় টুকু স্মৃতি 'র
বালুচরে
ধুলো'র ঝড়ে অক্ষত !
একদিন এটুকুও হারাবে
সেটাই শেষের সেই দিন !

সালটা ১৯৯৮
সংসারের কাঠামোটা
ততদিনে চিতায় উঠে গেছে !
ভাইয়ের জন্ম
তাতে যেন ঘি ঢেলে দিলো !
চরম দুর্দশা সেসময়
নুন আনতে পান্তা ফুরোয়
এক কথা
কিন্তু শুন্য ভাঁড়ারে
সংসার
ক'দিনই বা চলে !
(
ক্রমশ:
জীবনী -২৬
 )
--১৭.১০২০১৫

Tuesday, October 6, 2015

শেষ প্রশ্ন ....

জীবন শুকনো কাঠ
শব্দেরা একচিলতে রোদ 
মেঘ করে মাঝে মাঝে 
কবিতা বৃষ্টি নামে !

আমায় বাঁধেনি কবিতা 
তাই মহাকাব্য 
লিখছি 
আমার কথা 
আমার জীবনী !

অনেক কথা বললাম 
ছোট ছিলাম একদিন 
সময় সেদিন 
আমায় বাঁধেনি 
আজ  বেড়েছে বয়স ;বেড়েছে ব্যস্ততা !
অভিজ্ঞতার সঞ্চয় 
আজ ভাষ্য রূপ !

সব মানুষের শুরুতে এক পরিবার 
সেই পরিবার ভেঙ্গে একলা হওয়া 
এরই নাম জীবন !
কারও মৃত্যু আপেক্ষিক নয় 
সনাতন সত্য সেটাই !
অন্যভাবে বললে 
জীবনের 
এক ও অদ্বিতীয় ধ্রুবক ! 

একদিন ক্লান্তি নামবে 
অবিরাম যাত্রার 
অনিবার্য ইতি !
পরিবার - সম্পর্ক - আবেগ 
বিদায় জানাবো 
সকল পিছুটান কে !

স্থির চক্ষু উন্মীলিত 
অবাক আমি খুঁজবো 
সেদিন তোমায় !

ধরা দেবে তো আমায় ?  
(
ক্রমশ :
জীবনী -২৫
)
-০৬.১০.২০১৫

Saturday, October 3, 2015

মায়ের কথা

আবেগপ্রবণ হলে
সুযোগসন্ধানী হবো !

বৃত্তের বাইরেও একটা
বৃত্ত থাকে
তাকেই জীবন বলি !

আজ কিছু কথা মা কে নিয়ে
জন্ম সেই রেল শহর
চিত্তরঞ্জন
সেখানেই বেড়ে ওঠা
শিক্ষা দীক্ষায়
বিশেষ পারদর্শিতা
না থাকায়
ছাত্রী জীবনের ইতি ক্লাস ৯ যখন !

পড়াশোনায় মন না থাকলেও
গানে,ছবি আঁকায় মা নাকি
কোনোদিন দ্বিতীয়
স্থান পায়নি মা !
সন্দেহ নেই তাতে
মায়ের হাতে আঁকা ছবি
হোক
বা মায়ের গানের গলা
কোনটার বিন্দুমাত্র
আমি পাইনি !
শুধু আমি কেন আমরা ভাইরা
কেউই সেরম পাইনি
তবে গানের প্রতি ভালোবাসাটা
গানের কদর আমাদের সবারই আছে !
গানের কথা এক
গান ছেড়ে দিলে আসে
ছবি আঁকা
তাতে আমি ছাড়া
দাদা-ভাই দুজনেই
আজন্ম লেওনার্দ !

আমি  হলাম আনকোরা লেখক
লেখক বলাটা
যদিও ভুল
আকাশ তো কবিতা'র !

আমি লিখছি জীবনের কথা
জীবন লেখাচ্ছে .........
(
ক্রমশ :          
জীবনী-২৪
)
-০৪.১০.২০১৫

অজেয় সময়

ক্লান্তি এলে
মাথা রাখবো তোর্ বুকে
আমায় আশ্রয় দিস !

বাবা কে বেশির ভাগ সময় দেখেছি 
অস্থিরমতি !
আমিও পেয়েছি সেই দোষ /গুন 
যদিও স্থির ,শান্ত ,নিরুদ্বেগ 
কিন্তু একটা সীমার পর 
যেমন কোনো কিছুই 
স্বাভাবিক নয় 
এক্ষেত্রেও তাই !
যত দিন গেছে 
সেই উদাসীনতা বেড়ে গেছে 
ফলস্বরূপ 
প্রথমে চাকরি ছেড়ে দেওয়া 
তারপর ক্রমশই 
নিজেই নিজের মাঝে নিজেই 
গুটিয়ে যাওয়া !

পিছুটান হারিয়ে ফেললে 
মানুষের জীবনে সত্যি আর কিছু 
থাকে কিনা জানা নেই !

বাবার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিলো 
প্রথম প্রথম যে মানুষটা
পরিবার কেন্দ্রিক প্রানোচ্ছল 
ছিল 
যত দিন গেছে 
সে যেন সবার থেকে নিজেকে 
দুরে সরিয়ে নিয়েছে !
কোনো স্বার্থ সিদ্ধি নয় 
কোনো  উচ্চ-আকাঙ্খা নয় !
তবুও জানিনা কেন মানুষটা
নিজেকে শেষ করেছে 
দিনের পর দিন !

বোঝেনি যা 
জীবনের পরিধি 
নির্ধারিত প্রকৃতির নিয়মে !
কারও চাওয়া তে 
কোনো কিছু বদলে না 
বদলে কেবল সময়ের অভিসন্ধি তে !

আর পৃথিবীতে 
মানুষ সব অজেয় কে জয় করতেই পারে 
সময় কে জয় করার কৌশল 
আজও অধরা !
তাই  জীবনের কথাও থেকে যায় বাকি 
(
ক্রমশ ...........
জীবনী -২৩
)
-০৩.১০.২০১৫

Friday, October 2, 2015

দোসরা অক্টবর....২

ডাক নাম রাজা
ভালো নাম সৌরভ
জন্ম ২রা অক্টোবর
সাল ১৯৮৮ !

একদিকে গান্ধী'র অহিংসা
অন্যদিকে মেঘে ঢাকা পরে যায়
চরমপন্থী শাস্ত্রীজী 'র জীবন !

আমার দাদা গান্ধী নয় বলাই যায়
তবে শাস্ত্রীজী'র ছোঁয়া
অস্বীকার করা যায় না !

ছোট থেকেই খুব আদুরে দাদা
ছোটবেলাতে
মামাবাড়ি তে ওকে ডাকা হতো
সুখের পায়রা !
ভালো স্কুলে শিক্ষা
ভালো খাওয়া ;ভালো জামাকাপড়
এসবই শুরু থেকে দাদা'র
জীবন কে খুব অভিজাত করে ফেলেছিলো !
আমার ক্ষেত্রে যে ছিলনা
তা না
কিন্তু আমার আসক্তি পায়নি এসব !

এক বছরের ছোট -বড়
তাই একসাথে খেলা
পড়া -বেড়ে-ওঠা
সালটা ১৯৯৮ যখন ভাই হলো
সেই সময় থেকে দাদা কে নতুন করে
আবিস্কার করা শুরু করলাম !
কিছু মানুষের মধ্যে যে
কখন সময় পূর্ণতা এনে দেয়
বোঝা যায়না !
আগেই বলেছি দাদা চিরদিন খুব মার্জিত
ছোট থেকেই
তা সেই সময়
যখন বাবা কে ঘরে পাওয়া যেত না
ভাইয়ের ক্ষেত্রে বাবা'র জায়গাটা
দাদা নেয় !
কি অদ্ভুত কাল অব্দি যে ছেলে
কোনদিন গান গায়নি
সিনেমা দেখেনা
সে কিনা নিজে থেকে ভাইয়ের জন্যে
ছড়া কাটতে লাগলো !
আমার বিস্ময়ের শেষ ছিল না
কিভাবে পারলো
ও'র দেখা দেখি আমিও চেষ্টা করেছিলাম
পারিনি
এমনকি আজও পারিনা ! 

আমি যা শিখেছি
জীবনের দান
যা কিছু আমার
সবই তোমার !
(
ক্রমশ .......
জীবনী -২২
)
-০২.১০.২০১৫

Thursday, October 1, 2015

দোসরা অক্টবর....১

সংক্রামক একটা রোগ
সব মানুষের থাকে
আমারও আছে
জন্ম থেকেই ভাঙ্গন দেখছি
তাই কিছু সৃষ্টি
নিজে করতে চাই !
সৃষ্টি এমন কিছু
যা শর্তহীন
সৃষ্টি এমন
যা সময়ের অতীত !

কাল দোসরা অক্টবর
বিস্ময় মানুষ গান্ধী 'র জন্মদিন
বিস্ময় কারণ সরকারী পরিসংখানে
ইনি একমাত্র শান্তির দূত
যিনি রাজনৈতিক কূটনীতিবিদ !

বিতর্কের বাইরে একটা জানালা থেকে যায়
যাকে জীবন বলি
আর সেই জীবনের কথা বলার অভিপ্রায় এই জীবনী
তা এই ২রা  অক্টবর দিন'টা
এক বিশেষ তাত্পর্য রাখে আমার জীবনে !
আমার দাদা সৌরভ ;
তার জন্মদিন !
কমবেশি আমার থেকে এক বছরের বড়
তবে জীবন দর্শনে আমার থেকে অনেক বেশি
বেপরোয়া আবার সঙ্গেই সংযমী !
এক বিচিত্র চরিত্র
আগেও বলেছি ছোট তে কিন্তু দাদা
খুব মার্জিত ছিলো
যেমন শান্ত তেমনি ভদ্র !
কিন্তু বড় হতে হতে
পুরো পরিসংখ্যানটাই পাল্টে গেলো
বা বলা যায় সেটাই হওয়ার ছিল !
বাড়ির বড় ছেলে স্বাভাবিক ভাবেই
সকলের প্রিয় !
একটা বিরতি
একটা শুন্যতা
সব সমীকরণ বদলে গেলো !

জীবনের কথা জীবন জানে
হিসাবে মেলেনা
এ অঙ্ক
সবাই পারে না !

(ক্রমশ .........
জীবনী ২১)

০১.১০.২০১৫