Thursday, December 31, 2015

আমার শহর ২

শহর বললেই অনেক কথা
জন্ম দিলো যে মাটি
মা কে ভোলা যায়
কিন্তু মায়ের কোল ভুলবো কিভাবে ?

ঠিক তেমন
এই শহরের সাথে আমার সম্পর্ক
প্রতিটি পথ অন্তরঙ্গ চেনে
জানে অনেক বেশি
এমনকি যা মানুষও জানেনা !
মানুষ মানেই তো সীমা
সীমা মানুষ কে বাঁধে
মানুষ যেমন পোষে পশু-পাখী !
তাদের অসহায়তা টানে
মানুষের উদার মন কে !
জীবনও তেমন টানে
আর আমরা জড়াতে থাকি !
এক অমোঘ মায়া এই পথের সাথে
আমি আর স্মৃতি এক হয়ে যাই !

মহানগর ছেড়ে এই ছোট মফস্বল
যেন মহাবিশ্ব ছেড়ে কক্ষ পথে বাঁধা !
আমাদের এখানার হাসপাতাল
জাতির জনকের স্ত্রীর নামে নামাঙ্কিত
আমার জন্ম এখানেই !
জন্মের পর তিন বছর কম-বেশি ছিলাম
প্রত্যাবর্তন সাল ১৯৯৯,তা: ৫ ই আগস্ট !
আমরা আসার মাস খানেকের মাথায় দিদা'র মৃত্যু
সৌজন্যে আমাদের সংসার ভাঙ্গা
হাই সুগার ছিলই ;একটা স্ট্রোক
তখন দুপুর ৩-৪ টে !
২৩ জানুয়ারী ,২০০০
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো
লাভ কিছু হলোনা !

এখানকার মানুষজন সকলেই শিল্পী
না না ;সে অর্থে নয়
তবে অন্য অর্থে
অর্থ বলতে যেহেতু সকলেই শিল্পোদ্যোগের অঙ্গী !
সহজ সরল অনাড়ম্বর জীবন
যেন সব টুকুই হাতে করে সাজানো !
কত অবসাদ
কতই আনন্দ
আবেগ সেও কম নয়
ফিরে ফিরে আসা !-৩১.১২.২০১৫

Friday, December 25, 2015

বড়দিন

বড়দিন -এর স্মৃতি উস্কে দেয়
ছোটবেলা -বড়বেলা
মিলে অনেক স্মৃতি !
বাবা'র কাছে বড়দিন মানে
আনলিমিটেড ফান
মায়ের কথায়
১ সপ্তাহ ধরে কেক উত্সব !
মনে পড়ছে আবছা
শেষ বারের
বড়দিনের কথা সালটা
আমরা কেউ ভাবিনি কেক আসবে
কিন্তু সন্ধেবেলায়
যেই বাবা ঘরে ঢুকলো
হাতে অমন ১টা বাক্স নিয়ে !
ছোট থেকেই আমি পেস্ট্রি পোকা
তাই কেক পেলে আনন্দের সীমা থাকত না !

"চিরদিন কারো সমান নাহি যায় "

আমারও তাই হলো
স্বাধীন জীবনের ইতি
পরাধীনতার শৃঙ্খল এলো জীবনে !
আয়তনের বেহিসাবী জীবন
হঠাত পেলো অচলায়তন !
সম্ভাবনা সৃষ্টির আগেই
অপমৃত্যু
বড়দিন'গুলো আর বিশেষ অর্থবহ ছিলোনা !
সালটা ২০১১
আমি প্রথম চার্চে পা রাখলাম
আমারই এক ছাত্রের উপদেশে
নাস্তিক হয়েছিলাম সালটা ২০০৮
যদিও বলা ভালো
সেটা স্বাধীন চিন্তার উন্মেষ !

জীবনের কলম
অনুময় সব স্মৃতি
অনন্য অতীত
অজানা কাল
কে জানে কাল যদি না থাকি !-২৫.১২.২০১৫

Wednesday, December 23, 2015

আমার শহর চিত্তরঞ্জন

আজ বলি
আমার জন্ম শহরের কথা
দেশ স্বাধীন হলো 
সাল ১৯৪৭
আমার শহরের পত্তন 
সাল ১৯৫০ !
আমার শহর বকলমে 
রেল শহর 
স্বাধীনতার পরবর্তীকালে 
দেশে যে শিল্পোদ্যোগের প্লাবন আসে 
তার অগ্রণী শরিক 
আমার শহর 
চিত্তরঞ্জন !

ভৌগলিক অবস্থানে আলোকপাত করা যাক 
মানচিত্রে দেশ ভাগ হওয়ার পর 
আমাদের অবস্থানটা হলো 
তত্কালীন বাংলা ও বিহারের 
কাঁটাতার তথা সীমান্তে !
পরবর্তীকালে যখন 
ঝাড়খন্ড রাজ্য ঘোষিত হলো 
সে হলো আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী !

এ গেলো মানচিত্রের 
বৈষম্য 
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে 
আমার শহর অনন্যা !
ভূগোলের বই আর ইতিহাসের নথি মিলিয়ে বলা যায় 
তদানীন্তন
সাঁওতাল পরগনার অন্তর্গত
আমার এই শহর  !
তদুপরি 
ছোটনাগপুর মালভূমি'র অংশ
ঠিক প্রান্তেই রয়েছে দামোদরের শাখা নদী অজয়
বর্ষা নির্ভর তাই শীতকালে তাতে হাঁটু জল !              

এখানকার জনবসতি'র ঘনত্ব খুবই কম
প্রকৃতির অপার সৌজন্য শোভিত আমার শহর !
আবহাওয়া একপ্রকার চরমপন্থী বলা যায়
যেমন গ্রীষ্মের প্রখর উত্তাপ
তেমনি শীতের আমেজ !
শহরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ভারতীয় রেলের
ঐতিহ্যময় ইতিহাস !
প্রসঙ্গত এখানে যে কারখানাটি
তা কেবল ভারত নয় সমগ্র এশিয়া'র বৃহত্তম !
অবশ্যই এটি ভারতের সব থেকে বড়
বৈদ্যুতিন ইঞ্জিন নির্মানের কেন্দ্র !

আমার গর্ব
আমার শহর
প্রাণ দিয়েছে এই মাটি !
ফিরে ফিরে আসা
ঋণ রিক্ত জীবন !-২৩.১২.২০১৫

Friday, December 4, 2015

বুঝিনি তুমি মানবী

জীবন অসময়ের বর্ষা
জীবন অসমাপ্ত
কি লিখবো
কাকে নিয়েই বা !
পথ হারানো
উদ্বাস্তু
ধ্রুবতারা পথ হারালে
কে দেখায় তাকে পথ ?

আমার জীবন
সেই ধ্রুবতারার মতই
সব থেকেও
কিছু নেই !

কেউ কারও জায়গা
নিতে আসে না
সময় সবাই কে
জায়গা করে দেয় !

যে অতীত
সে স্মৃতি
তুমি বর্তমান
এটাই বাস্তব !
যা দেখছো মরু
সাগরের প্রতিরূপ মরীচিকা !

তোমার কাছে
আত্মা চেয়েছিলাম
বুঝিনি তুমি মানবী ! - ০৪.১২.২০১৫

Wednesday, November 25, 2015

বিবাহ বার্ষিকী

ছোট বেলায়
বড় মামা মজা করে বলতো
"বাবা'র বিয়ে দেখেছিস ?"
অবাক হতাম
তা কি করে হয় !
পরে জানলাম
হয় বিয়ের এলবামে !

আজ সেই দিন
২৮ বছর পূর্তি !
"১২ বছর কোনোভাবে এক ছাদের নীচে;
২৫.১১.১৯৮৭ - ২৫.১১২০১৫
উভয়েই বেঁচে আছে ;মেরু দুটো পৃথক শুধু !"

সম্পর্ক একটা বন্ধন
আবার সময়ের সাথে সেটাই
স্মৃতি পট হয়ে দাঁড়ায়
কিছু সম্পর্কে স্মারক (তাজ )
কিছু সম্পর্ক চিতা'র অপেক্ষায় !

তৃষ্ণা 'র নাম সম্পর্ক নয়
কোনো অবলম্বন তাও নয়
একটা আশ্বাস
চিরতরে !
আমি যদি ভালো না থাকি
সে যেন বুকে টেনে নেয়
আমার হাত ধরে
সেই মুহুর্তে
যখন কেউ নেই পাশে !

আজ তারা বার্ধক্যের চৌকাঠে
উভয়েই পঞ্চাশ পেরিয়েছে !
আমি জানিনা বিধাতা'র বিধান
জানি শুধু তারা আজও জিইয়ে রেখেছে
কেউ অভিমানী
কেউ অসহায়
কিন্তু সম্পর্ক
সে তো নির্বাক ! -২৫.১১.২০১৫

Sunday, November 15, 2015

অগ্নিকুন্ড সংসার

হ য ব র ল
এমনই একটা স্রোত 
জীবন বলি !

হঠাত করে হয়না কিছু
সৃষ্টি যেমন সময়সাপেক্ষ
ধ্বংস তেমনি বস্তু কেন্দ্রিক !

জীবনের কলম বলতে চায়
পারেনা যদি
সে জীবনের দায় !
সব রাস্তায় শেষ আছে
পূর্ণতায় বা অপূর্ণতায় !
আমার জীবন সেই অপূর্ণতার ধ্বজাধারী
সেই জ্ঞান উদয় হওয়া থেকে দেখে আসছি !

সালটা ১৯৯৬ 
শেষের শুরুটা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছিলো !
ঘন -ঘন ছোট মামা আসতো বাড়িতে
থাকতে নয়
অর্থ সাহায্য করতে
অপরিকল্পিত এক সভ্যতা থেকেই আমার জন্ম !
ভেবে নয়
করার পর ভাবা
এটাই যেন দস্তুর !
বাবা প্রথম দিকে যতই ঘরোয়া ছিল
শেষের দিকে ঘরে প্রায় থাকতো না !
রাত হলে ফিরতো
চাকরি ছিলো না অনেকদিন
তাই রোজগার যোজনা 'র অন্তর্গত
স্বাধীন ব্যবসা করার উপদেশ
পুঁজি লগ্নি ও
পর দিন সব
বিশ বাঁও জলে !
সব লগ্নি'র একটাই ফল
মদ
কেন -প্রশ্নটা টা অবান্তর !
অভিমান বা অনীহা
অনভ্যাস বা অবক্ষয় !

এভাবেই চলতে থাকে
সর্বনাশী নেশা
যাকে গ্রাস করে
সেই জানে !
সব চেষ্টাই বৃথা
সব তীর্থের অতীত
যদি মানব জন্ম 
সব ধর্মের অতীত
সংসার !
মানব ধর্মের
অগ্নিকুন্ড
সংসার !- ১৫.১১.২০১৫

Saturday, October 24, 2015

প্রশ্ন টা থেকে যায়....

দানা পেলে
যেমন পায়রা জড়ো হয়
অবসরে তেমনি স্মৃতি 'রা !

হাতছানি ফেরানো যায়না 
একলা জীবন শেষ খোঁজে 
কখনও বা
এক নতুন সকাল !
কিন্তু,কিভাবে 
প্রশ্ন টা থেকে যায়..........
আজ বলি 
শেষের সেই দিনের কথা 
সব উত্থান পতন পেরিয়ে 
যখন নিশ্চিত 
বিচ্ছেদ 
আমার শৈশবের ইতি তে 
অকাল বার্ধক্যের শঙ্খ বাজছে !

দিন'টা যদিও
অন্যদিনের মতই ছিলো !
কিন্তু শেষ টা কেন জানিনা 
চিরদিন অপ্রত্যাশিত থেকে যায় !
না চাইলেও 
একটা প্রানবন্ত মানুষ 
লেখে কবিতা 
তার জীবনে প্রেম আসে 
বা বলি আসে 
দর্শনার্থী 
যেন কোনো এক পুণ্য পিপাসু 
পায় তার অভিষ্ঠ ! 

যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম 
সেটা ছিল চার'তলা ;
আমরা নিচের তলায় 
সব যখন নিশ্চিত 
সকাল থেকেই সেদিন 
পাওনাদারদের ডাকা হয়েছিলো 
যার যা বকেয়া
ঘরের জিনিস বিলিয়ে নিলামী !
সকাল ১১টায় তখন পুর্ভা নাম হয়নি 
ডিলাক্স বলেই জানতাম !
ঘরের সামনে ট্যাক্সি এলো 
আসার আগে মা বলেছিলো 
বাবা কে প্রনাম করে আসতে 
গেছিলাম 
বাবা'র চোখে জল 
কোনো কথা মুখ ফুটে বলেনি !
(
ক্রমশ :
জীবনী -২৮
)
-২৪.১০.২০১৫

Sunday, October 18, 2015

আদিম নেশা

চাহিদা নয় 
শেষ হওয়ার 
সময় তাইতো সীমিত !
ক্ষুদ্র গন্ডি 
ক্ষুদ্রতর তোমাকে চেয়ে 
আদিম নেশা 
তোমায় ভালোবাসা !

জীবনের কথা 
জন্ম ছোট শহরে 
চোখ ফোটা মহানগরে 
জীবন কে কোনোদিন 
সীমা'র মাঝে বাঁধিনি 
ভেঙ্গেছি কেবল গন্ডি !

ধাপে ধাপে 
ক্ষয় হতে দেখেছি
সাজানো সংসার ভেঙ্গেছে ! 
আমার কল্পনায় 
তাই 
পরিবার আসেনা !
ভাঙ্গা কাঁচ জোড়া লাগে না 
মানুষের মন ও তাই 
একটা প্রলেপ যা সাময়িক 
একটি ভরসা;মেকি হাসিমুখ !
অন্তর্দহনে বিবেকদংশনে 
চিতার প্রয়োজন হয়না !

সমাজ 
যে সঙ্গ দেয়
নাকি 
সে যে কেড়ে নেয় 
সামান্য আশা 'র আলোটুকু !

মা কে দেখেছি সিন্দুর মুছে দিতে 
আজ আমার জীবনেও কতই প্রেমিকা 
মোটা ভাত ;মোটা কাপড় 
চাহিদা কাকে বলে ?
গবেষণা'র দাবি রাখে !

এমনিভাবেই ফুরিয়ে যায় 
জীবন 
শেষের কবিতায় 
একদিন হয়তো কবি প্রস্তাব দেবে 
মৃত প্রেমিকা'র সিন্দুরী কপালের 
কথা ভেবে 
সদ্য যুবতী প্রেমিকাকে 
প্রেম নিবেদন করবে কবি !
(
ক্রমশ :
জীবনী-২৭
)
-১৮.১০.২০১৫

Saturday, October 17, 2015

বিরতি 'র পর

এক দীর্ঘ বিরতি
জীবন শুষে নেয়
সমস্ত সঞ্চয় !
নিঃশ্বাস কে
মনে হয় শত্রু
পেতে চায় যত
ততই হারিয়ে যায় !
এই টানাপোড়েন
জীবন এগিয়ে যায় !

অনেক ভালো মন্দ স্মৃতি জড়িত
ছোটবেলা
মনে হতো এক সময়
যেন কখনও
বড় না হই !
কিন্তু জীবন
থেমে থাকলো না
আমি বাড়তে থাকলাম
ধাপে ধাপে !
প্রথম ইস্কুলে যাওয়া
প্রথম নামতা মুখস্থ
প্রথম হাতে খড়ি !
শেষ সঞ্চয় টুকু স্মৃতি 'র
বালুচরে
ধুলো'র ঝড়ে অক্ষত !
একদিন এটুকুও হারাবে
সেটাই শেষের সেই দিন !

সালটা ১৯৯৮
সংসারের কাঠামোটা
ততদিনে চিতায় উঠে গেছে !
ভাইয়ের জন্ম
তাতে যেন ঘি ঢেলে দিলো !
চরম দুর্দশা সেসময়
নুন আনতে পান্তা ফুরোয়
এক কথা
কিন্তু শুন্য ভাঁড়ারে
সংসার
ক'দিনই বা চলে !
(
ক্রমশ:
জীবনী -২৬
 )
--১৭.১০২০১৫

Tuesday, October 6, 2015

শেষ প্রশ্ন ....

জীবন শুকনো কাঠ
শব্দেরা একচিলতে রোদ 
মেঘ করে মাঝে মাঝে 
কবিতা বৃষ্টি নামে !

আমায় বাঁধেনি কবিতা 
তাই মহাকাব্য 
লিখছি 
আমার কথা 
আমার জীবনী !

অনেক কথা বললাম 
ছোট ছিলাম একদিন 
সময় সেদিন 
আমায় বাঁধেনি 
আজ  বেড়েছে বয়স ;বেড়েছে ব্যস্ততা !
অভিজ্ঞতার সঞ্চয় 
আজ ভাষ্য রূপ !

সব মানুষের শুরুতে এক পরিবার 
সেই পরিবার ভেঙ্গে একলা হওয়া 
এরই নাম জীবন !
কারও মৃত্যু আপেক্ষিক নয় 
সনাতন সত্য সেটাই !
অন্যভাবে বললে 
জীবনের 
এক ও অদ্বিতীয় ধ্রুবক ! 

একদিন ক্লান্তি নামবে 
অবিরাম যাত্রার 
অনিবার্য ইতি !
পরিবার - সম্পর্ক - আবেগ 
বিদায় জানাবো 
সকল পিছুটান কে !

স্থির চক্ষু উন্মীলিত 
অবাক আমি খুঁজবো 
সেদিন তোমায় !

ধরা দেবে তো আমায় ?  
(
ক্রমশ :
জীবনী -২৫
)
-০৬.১০.২০১৫

Saturday, October 3, 2015

মায়ের কথা

আবেগপ্রবণ হলে
সুযোগসন্ধানী হবো !

বৃত্তের বাইরেও একটা
বৃত্ত থাকে
তাকেই জীবন বলি !

আজ কিছু কথা মা কে নিয়ে
জন্ম সেই রেল শহর
চিত্তরঞ্জন
সেখানেই বেড়ে ওঠা
শিক্ষা দীক্ষায়
বিশেষ পারদর্শিতা
না থাকায়
ছাত্রী জীবনের ইতি ক্লাস ৯ যখন !

পড়াশোনায় মন না থাকলেও
গানে,ছবি আঁকায় মা নাকি
কোনোদিন দ্বিতীয়
স্থান পায়নি মা !
সন্দেহ নেই তাতে
মায়ের হাতে আঁকা ছবি
হোক
বা মায়ের গানের গলা
কোনটার বিন্দুমাত্র
আমি পাইনি !
শুধু আমি কেন আমরা ভাইরা
কেউই সেরম পাইনি
তবে গানের প্রতি ভালোবাসাটা
গানের কদর আমাদের সবারই আছে !
গানের কথা এক
গান ছেড়ে দিলে আসে
ছবি আঁকা
তাতে আমি ছাড়া
দাদা-ভাই দুজনেই
আজন্ম লেওনার্দ !

আমি  হলাম আনকোরা লেখক
লেখক বলাটা
যদিও ভুল
আকাশ তো কবিতা'র !

আমি লিখছি জীবনের কথা
জীবন লেখাচ্ছে .........
(
ক্রমশ :          
জীবনী-২৪
)
-০৪.১০.২০১৫

অজেয় সময়

ক্লান্তি এলে
মাথা রাখবো তোর্ বুকে
আমায় আশ্রয় দিস !

বাবা কে বেশির ভাগ সময় দেখেছি 
অস্থিরমতি !
আমিও পেয়েছি সেই দোষ /গুন 
যদিও স্থির ,শান্ত ,নিরুদ্বেগ 
কিন্তু একটা সীমার পর 
যেমন কোনো কিছুই 
স্বাভাবিক নয় 
এক্ষেত্রেও তাই !
যত দিন গেছে 
সেই উদাসীনতা বেড়ে গেছে 
ফলস্বরূপ 
প্রথমে চাকরি ছেড়ে দেওয়া 
তারপর ক্রমশই 
নিজেই নিজের মাঝে নিজেই 
গুটিয়ে যাওয়া !

পিছুটান হারিয়ে ফেললে 
মানুষের জীবনে সত্যি আর কিছু 
থাকে কিনা জানা নেই !

বাবার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিলো 
প্রথম প্রথম যে মানুষটা
পরিবার কেন্দ্রিক প্রানোচ্ছল 
ছিল 
যত দিন গেছে 
সে যেন সবার থেকে নিজেকে 
দুরে সরিয়ে নিয়েছে !
কোনো স্বার্থ সিদ্ধি নয় 
কোনো  উচ্চ-আকাঙ্খা নয় !
তবুও জানিনা কেন মানুষটা
নিজেকে শেষ করেছে 
দিনের পর দিন !

বোঝেনি যা 
জীবনের পরিধি 
নির্ধারিত প্রকৃতির নিয়মে !
কারও চাওয়া তে 
কোনো কিছু বদলে না 
বদলে কেবল সময়ের অভিসন্ধি তে !

আর পৃথিবীতে 
মানুষ সব অজেয় কে জয় করতেই পারে 
সময় কে জয় করার কৌশল 
আজও অধরা !
তাই  জীবনের কথাও থেকে যায় বাকি 
(
ক্রমশ ...........
জীবনী -২৩
)
-০৩.১০.২০১৫

Friday, October 2, 2015

দোসরা অক্টবর....২

ডাক নাম রাজা
ভালো নাম সৌরভ
জন্ম ২রা অক্টোবর
সাল ১৯৮৮ !

একদিকে গান্ধী'র অহিংসা
অন্যদিকে মেঘে ঢাকা পরে যায়
চরমপন্থী শাস্ত্রীজী 'র জীবন !

আমার দাদা গান্ধী নয় বলাই যায়
তবে শাস্ত্রীজী'র ছোঁয়া
অস্বীকার করা যায় না !

ছোট থেকেই খুব আদুরে দাদা
ছোটবেলাতে
মামাবাড়ি তে ওকে ডাকা হতো
সুখের পায়রা !
ভালো স্কুলে শিক্ষা
ভালো খাওয়া ;ভালো জামাকাপড়
এসবই শুরু থেকে দাদা'র
জীবন কে খুব অভিজাত করে ফেলেছিলো !
আমার ক্ষেত্রে যে ছিলনা
তা না
কিন্তু আমার আসক্তি পায়নি এসব !

এক বছরের ছোট -বড়
তাই একসাথে খেলা
পড়া -বেড়ে-ওঠা
সালটা ১৯৯৮ যখন ভাই হলো
সেই সময় থেকে দাদা কে নতুন করে
আবিস্কার করা শুরু করলাম !
কিছু মানুষের মধ্যে যে
কখন সময় পূর্ণতা এনে দেয়
বোঝা যায়না !
আগেই বলেছি দাদা চিরদিন খুব মার্জিত
ছোট থেকেই
তা সেই সময়
যখন বাবা কে ঘরে পাওয়া যেত না
ভাইয়ের ক্ষেত্রে বাবা'র জায়গাটা
দাদা নেয় !
কি অদ্ভুত কাল অব্দি যে ছেলে
কোনদিন গান গায়নি
সিনেমা দেখেনা
সে কিনা নিজে থেকে ভাইয়ের জন্যে
ছড়া কাটতে লাগলো !
আমার বিস্ময়ের শেষ ছিল না
কিভাবে পারলো
ও'র দেখা দেখি আমিও চেষ্টা করেছিলাম
পারিনি
এমনকি আজও পারিনা ! 

আমি যা শিখেছি
জীবনের দান
যা কিছু আমার
সবই তোমার !
(
ক্রমশ .......
জীবনী -২২
)
-০২.১০.২০১৫

Thursday, October 1, 2015

দোসরা অক্টবর....১

সংক্রামক একটা রোগ
সব মানুষের থাকে
আমারও আছে
জন্ম থেকেই ভাঙ্গন দেখছি
তাই কিছু সৃষ্টি
নিজে করতে চাই !
সৃষ্টি এমন কিছু
যা শর্তহীন
সৃষ্টি এমন
যা সময়ের অতীত !

কাল দোসরা অক্টবর
বিস্ময় মানুষ গান্ধী 'র জন্মদিন
বিস্ময় কারণ সরকারী পরিসংখানে
ইনি একমাত্র শান্তির দূত
যিনি রাজনৈতিক কূটনীতিবিদ !

বিতর্কের বাইরে একটা জানালা থেকে যায়
যাকে জীবন বলি
আর সেই জীবনের কথা বলার অভিপ্রায় এই জীবনী
তা এই ২রা  অক্টবর দিন'টা
এক বিশেষ তাত্পর্য রাখে আমার জীবনে !
আমার দাদা সৌরভ ;
তার জন্মদিন !
কমবেশি আমার থেকে এক বছরের বড়
তবে জীবন দর্শনে আমার থেকে অনেক বেশি
বেপরোয়া আবার সঙ্গেই সংযমী !
এক বিচিত্র চরিত্র
আগেও বলেছি ছোট তে কিন্তু দাদা
খুব মার্জিত ছিলো
যেমন শান্ত তেমনি ভদ্র !
কিন্তু বড় হতে হতে
পুরো পরিসংখ্যানটাই পাল্টে গেলো
বা বলা যায় সেটাই হওয়ার ছিল !
বাড়ির বড় ছেলে স্বাভাবিক ভাবেই
সকলের প্রিয় !
একটা বিরতি
একটা শুন্যতা
সব সমীকরণ বদলে গেলো !

জীবনের কথা জীবন জানে
হিসাবে মেলেনা
এ অঙ্ক
সবাই পারে না !

(ক্রমশ .........
জীবনী ২১)

০১.১০.২০১৫

Sunday, September 27, 2015

আমার দার্শনিক হওয়া....

তুই সেই জীবন
মৃত্যু তে ইতি নয় যার !

আমার বিশ্বাস
স্বপ্ন থেকেই জীবনের শুরু
না বিজ্ঞানের বিতর্ক নয়
বিবেকের আহবান !
প্রথম সন্তান
সব মানুষের জীবনে পূর্ণতা আনে
শুরু হয় সংসার
একদিকে চাহিদা
অন্যদিকে অভাব !

চলছিলো বেশ
৪ জনের সংসারে এলো
এক অবাঞ্চিত নয়
তবে অপরিকল্পিত অতিথি !
সেসময় ঘরে এমনিতেই অভাব
কারণ ,বাবার বেপরোয়া জীবন যাপন !
মামাবাড়ি থেকে বহুবার বহুভাবে চেষ্টা
বাবা 'র মতি পরিবর্তন হয়নি !
সালটা ১৯৯৬;আমার দাদু দিল্লি এলো
সঙ্গে ছোট মামা
উদ্দেশ্য .....
মা কে ফিরিয়ে নেওয়া
দাদু চিরদিনই খুব একরোখা
কিন্তু মা মেনে নেয়নি !
কি করেই বা মেনে নেবে
কোন মেয়ে চায় তার সংসার ভেঙ্গে যাক ?

দাদু ফিরে গেলো
কিন্তু কোনকিছুই আর
আগের মতো হয়নি
যতদিন গেছে তত অশান্তি বেড়েছে
পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বাবা'র মদের আসক্তি
আয় শুন্য ব্যয়ের খাতে আমরা তখন দুই ভাই
স্কুলের ফিস দেওয়া হলো না
দাদা 'র স্কুল থেকে ডাক এলো
তিন মাসের ফিস দিউ
নাম কেটে দেওয়া হবে
হলো
এবার আমার পালা
সরকারী স্কুল সবে ক্লাস ৪
মাযের সাথে স্কুলে গেলাম
স্কুল কে বিদায় জানাতে !

যারা এরপরও আমার দার্শনিক
হওয়ায় অভিভূত
আমার সহানুভুতি
তাদের সাথে চিরতরে !

(ক্রমশ........
জীবনী - ২০)

-২৭.০৯.২০১৫

Friday, September 25, 2015

ভাইয়ের জন্ম ....

অতীতের দিকে তাকালে
ভবিষ্যত অনুমান করা যায় !
জীবন থেমে থাকে না
যা দাও তাই সে ফিরিয়ে দেয় !

জীবনী'র পাতায় আজ আমাদের পরিবারের
ছোট জনের কথা
আমার ছোট ভাই
সালটা ১৯৯৮;
দিনটা আজ থেকে ১৭ বছর আগে
ঠিক আজকের দিন'টা ২৪শে সেপ্টেম্বর !

আজও খুব ম্লান নয় স্মৃতি
সে কথা আজও ভুলিনি !
মায়ের ব্যথা উঠে গেছে
ঘড়িতে কম-বেশি রাত ৯টা
ব্যথা বাড়তে থাকে প্রায় রাত ১১টা
বাইরে তখন মসুলধারে বৃষ্টি !
বাবা কাছের এক ট্যাক্সিওয়ালা কে ডেকে
মা কে নিয়ে চলে যায় হাসপাতাল !
আমি আর দাদা তখনও রাতে একলা থাকিনি
আমাদেরই কাছের এক খ্রিস্টান ফ্যামিলি
তাদের বাড়িতেই সেদিন আমরা রাতে ছিলাম !
সেদিনই প্রথম আমার রাত জাগা
উপলব্ধি সম্পর্কের !
আমার আর দাদা'র বাজি ধরা
আমি চেয়েছিলাম বোন্
দাদা বলেছিলো ভাই
আমি হেরেছিলাম !
পরের দিন সকাল সকাল
সেই আন্টি 'র সাথে হাসপাতালে যাই
জীবনে প্রথম এত ছোট বাচ্চা দেখা
আমার ভাই;নিজের ভাই !

যে সময়ের কথা বলছি
সময়টা আমাদের পরিবারের ইতিহাসে
সবথেকে কঠিন সময় !

অনেক উত্থান পতন
পেরোনো এ জীবন
জন্ম সাক্ষী
মৃত্যুতে নিরুত্তর
এ জীবন !

(ক্রমশ .......
 জীবনী -১৯
-২৫.০৯.২০১৫   

Wednesday, September 23, 2015

মায়ের কথা .....

আমার মধ্যে আমি
তার'ই উপাখ্যান
আমার জীবনী !

আমাকে কাছ থেকে যারা জানে
তারা জানে আমি কোনকিছুতেই বিশেষ বিচলিত হইনা !
হয়তো  খুব কাছ থেকে বাস্তব কে দেখেছি
দেখছি বা  দেখি
অথবা
দেখা'র ভঙ্গি টাই নির্লিপ্ত
যে যার বিশ্বাসে বাঁচে
আমি বাঁচি অনন্তের সাধনায় !

আমি যখন ৮ বা ৯ একদিন মাকে
কাঁদতে দেখেছিলাম
আমার বুকে যে একটা হৃত্পিণ্ড আছে
সেই দিনই আমার জানা
আর তার যা যাবতীয় কাজকর্ম
সেই থেকে উদ্ভাবন শুরু !
জীবনে অজস্র প্রেমিকা এসেছে আমার
আমি কৃতজ্ঞ তাদের কাছে !
আমার বিশ্লেষণ
আমার অনুভব
আমার অভিজ্ঞান
সব তাদেরই দান !

তবে জীবনে প্রথম প্রেম
আমি মায়ের থেকেই শিখেছি
এখন বয়েস হয়েছে
জীবনের ঝঞ্ঝা সকলে অনেকটাই
বিলুপ্ত মায়ের নিজস্বতা !
হয়তো মানুষের জীবনের তাই নিয়ম
তবে ছোট থেকেই আমার মনে প্রেমের বীজ
নান্দনিকতার বিকাশ মায়ের হাত ধরে !
মায়ের ভালোলাগা গান আর সিনেমা
প্রসঙ্গত মায়ের গানের গলা অসাধারণ
নিজের মা বলে বলছি না
তবে কিছু মানুষ প্রকৃতি প্রদত্ত গুন নিয়ে জন্মায়
আমার হাতে লেখা
মায়ের গলায় গান !

তবে শুধু গান নয় ;ছবি আঁকতেও মায়ের
অসাধারণ দক্ষতা
অনিবার্য কারণবশতই গান আমিও গাই
ব্যক্তিগত পর্যায়ে
এমনকি আমার জীবনের সব থেকে বড় ভালো লাগা
বা ভালোবাসা সেটা গান
কবিতা'টা এসেছে অনেক পরে !
ছোট থেকেই খুব গান করার ইচ্ছা ছিল
একসময় রিয়ালিটি'র সৌজন্যে
সেই স্বপ্ন উড়ান পেয়েছিলো
তবে সময়ের স্রোতে সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে
তবে আজও আমার একলা সময় গান গাই
শোনাই তাদের যাদের মনে হয় নিজের থেকেও বেশি আপন !

স্ব্প্নেদের উড়ান
ডানা মেলবেই !
তাইতো আমি গাই জীবনের গান
সেই যে বাঁশুরিয়া
রাধিকা'রে করেছিলো আপন
যার প্রেমে বিবাগী মীরা
সময়ের হাতে নিয়ন্ত্রণ
রাধিকা নই যদি
না হয় হবো মীরা
তোমায় পেতে জীবন !

(ক্রমশ .........
জীবনী -১৮

-২৩.০৯.২০১৫                      

সম্পর্কের উত্থান ....২

অনেকটা সময় কেটে গেছে
জীবন এখন অনেক পরিনত
প্রায় আমায় জিজ্ঞেস করতো
এখন জানে সময় মৃত্যু আনে !

যে প্রসঙ্গে ছিলাম গতকাল
ব্যক্তিগত অনুসন্ধিত্সায় জেনেছি
বন্দ্যোপাধ্যায় উপাধি থেকে
অধুনা ব্যানার্জি'র কারণ !

একটু গভীরে গেলে বঙ্গ ভঙ্গের প্রাক্কালে
যে সব বাঙালি ইংরেজদের পক্ষ নেয়
তারা তদুনুযায়ী ব্যানার্জি বলে অভিহিত !
তবে সামাজিক সুত্রে এরা উচ্চবর্ণ
সন্দেহ নেই ;শিক্ষা দীক্ষা জ্ঞান চর্চা
সকল বিষয়েই অনেকের থেকে অনেকটা এগিয়ে !
তা সেই খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী
বা বলা যায়
অপেক্ষাকৃত বাংলার প্রকৃত সংস্কৃতি থেকে একটু বিছিন্ন
অথচ বাঙালি ও সম্ভ্রান্ত এক যোগসূত্র
যারা উত্স মুখ থেকে আমার সৃষ্টি !
যদিও আমার ব্যক্তিত্ব্-এ ক্ষেত্রবিশেষে
আমি ষোলআনা বাঙালি
আবার সময় সময় নিততান্তই প্রবাসী !

আপাতদৃষ্টি তে এই ছিল আমার পিতৃ পরিচয়
বিচার বিশ্লেষণ গবেষণা 'র অবকাশ সব সময়
ছিল -আছে -থাকবে !

মায়ের দিকে ফেরা যাক
আমার মা
বিয়ের আগে সুতপা দাস
পরবর্তীকালে অবধারিত পদবি পরিবর্তন !
আমার মধ্যে যে শিল্প চেতনা তার গুরুতর
অবদান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে মায়ের !

ইতিহাসের হাতছানি ফেরানো যায়না
তাই ফিরে ফিরে আসা
প্রতিটিদিন এক নতুন চেতনা
প্রতিটিদিন এক অন্য জীবন !

ক্রমশ

২২.০৯.২০১৫

Monday, September 21, 2015

সম্পর্কের উত্থান ....

সময় বদলেছে
বদলেছে পরিসংখ্যান !
আমি ক্ষিদে নিয়ে বেড়েছি
তাই পরিচয় খুঁজি !

আবার আমার জন্ম হলো
নিঃশ্বাস চলছে
আলো মিশছে অন্ধকারে
আলেয়া দেখছি কেবল
কে বলতে পারে....
গুরু পূর্নিমায় জন্ম
ফিরিয়ে দেবো কবি গুরু !
সুপ্ত মনের বাসনা
একদিন সবাই জানবে
শিশু মাত্রেই
চাঁদ পেতে চায় !

জীবনী'র পাতায় এক দীর্ঘ বিরতি

আবার ফিরে এলাম
আজ একটু ঝালিয়ে নেওয়া যাক
সম্পর্কের উত্থান
কে আমি ?
পিতৃ পরিচয়
থেকে যদি শুরু করি
বাবা'র নাম সুব্রত ব্যানার্জী !
বাবা'রা তিন ভাই
বাবা ছোট
আমার ঠাকুরদা
ক্ষিতিমোহন ব্যানার্জী !
যতদুর শুনেছি
ঠাকুরদা ছিলেন
শিক্ষিত
অভিজাত
সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিত্ব্ !
তত্কালীন ভারতীয় রেলের
ক্লাস -১ অফিসার !

বাবা'র তরফে দেখা শোনা ও
পরবর্তীকালে আমার উদ্ভাবন
আমরা প্রকৃত বাঙালি নই
যদিও গোত্র পরিচয় শান্দিল্য !
তবুও বলি একটা ইংরেজ ঘেষা
ভাব আমি চিরদিন অনুভব করেছি !
বেপরোয়া বাঁচার নেশাটা
উত্তরাধিকারে বাবা'র থেকেই পাওয়া
আরও একটা পাওয়া তা হলো নিয়ম না মানা !
তবে নিয়ম না মানাটা আমি অন্যভাবে দেখি
কারও চোখে যা স্বেচ্ছাচারিতা
আমার চোখে তাই সৃষ্টি উল্লাস !

আমি জীবনের গান গাই
পরোয়া করিনা
মৃত্যু আমায় হাতছানি দেয় !

ক্রমশ.........

-২১.০৯.২০১৫
(জীবনী -১৬)

Saturday, September 12, 2015

কিছু কথা -কাব্য ,জীবন ,দর্শন ও ইতিহাস

ইতিহাসের অভিমুখ
পূর্ব নির্ধারিত
ধবংস করেছো যা
অমূল্য সে সব
ইতিহাস মনে করিয়ে দেয় !

মধুর স্বপ্নের বাসর এ জীবন
বাঁধ ভাঙ্গা আবেগের ফসল এ জীবন !
যেমন চলছে চলুক জীবন
এভাবেই চলে এটাই জীবন !

কিছু জীবন দর্শন হয়ে যায়
কি গান্ধী কি সুভাষ !
কিছু মৃত্যু মহাপ্রয়ান
কি স্মৃতি কি শৈশব !
ক্লান্তি জীবনেরও আসে
তফাৎ বার্ধক্য বা যৌবন !
ভুলেও শ্মশান মুখী হইনা
শ্মশান কালী আমি মানিনা !
আজকাল আমায় মৃত্যু ডাকে
নীরব-শীতল -শান্ত
মরণ
সাবলীল যেন ঝরনাধারা
স্বচ্ছ স্ফটিক !
আমি প্রত্যহ দেখি
আমার এগিয়ে যাওয়া !
নির্লিপ্ত -নিরুত্তাপ -অনুগত
অপূর্ব এক অনুভুতি ঘিরে থাকে !
উত্তাপ কমে আসে
নিঃশ্বাসের ঘনত্ব নয় আগের মতন
আর...........
শিথিল হয়ে আসে রক্তের স্রোত
দুর্বল স্নায়ু ;
পিছুটান থাকে না !

আমি দেখতে পাই
কত মানুষ !
শুনতে পাই হাহাকার
প্রিয়জন-পরিবার
জীবনও বাঁধা দেয় !
মুক্তি যেন কিছুতেই বাতাস পায়না
একবার ডানা মেলে
যেন অভিষ্ট প্রাপ্তি !
পরমুহুর্তে আবার হতাশা
ঝিরি ঝিরি বারিবর্ষণ
দিনের পর দিন সূর্য দেখিনা
চোখের কোনে কালি জমছে !

সবে পঁচিশ (২৫)
আমার আয়ু দিন গোনে না
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস
ইতিহাসের ঋণ !
আমার চুলে পাক ধরবে না
আমি জানি !
ইতিহাস চিরসবুজ
দার্শনিক মাত্রেই জানে !

জীবনের কথা বলি
মৃত্যু পথে চলি
যা কিছু ঋণ
আমি ফিরিয়ে দেবো !
শুধু
একটু সময়
চাই.................

(ক্রমশ :..........

১২.০৯.২০১৫

Thursday, September 10, 2015

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট

প্রতিটি দিন ইতিহাস
প্রতি মুহুর্তের যত দীর্ঘশ্বাস !
চোখ মুছিয়ে দেয় ভালোবাসা
তুমি ভাবো বুঝি
মন কেমন করছে ..!
কিসের ঋণ
কার কাছে .....!
দিতে পারোই বা কি
ভুল ভাঙ্গতে দেরী হয় !
কেউ সমাধি কেউ চিতা
ঠিক তার আগে
কেউ বুদ্ধ
কেউ সীতা !
কবে খুলবে তৃতীয় চোখ
কবে ঘুম ভাঙ্গবে !!!

সত্যি কিছু মানুষের ঘুম কোনদিন
ভাঙ্গে না !
বাবা কে শুরু থেকেই
দেখেছি
সিগারেটের নেশা বিড়ি
শেষে মদ !
মা কম চেষ্টা করেনি
কিন্তু ছাড়লো না !
তারপর একদিন
সবাই একদিকে  
জন্ম নিলো লেখক !
সব ধ্বংসের মধ্যেই
সৃষ্টির বীজ লুকিয়ে থাকে
তথাপি
ভাঙ্গা সংসারের
ভাঙ্গা স্বপ্নের মাঝে
শিশু মনে অঙ্কুর আজ ডানা মেলেছে !
তবে আমি একা নই
এই জীবনের সাথে জড়িয়ে
আরও অনেকে
মা -ভাই -দাদা
দুই মামা -দাদু -দিদা !

সব ইতিহাসের একটা প্রেক্ষাপট থেকেই থাকে
আমার ও আছে !
সালটা ১৯৮৭;তারিখ ২৫শে নভেম্বর
সাত পাঁকে বাঁধা'র ঠুনকো সামাজিক আয়োজন !

এভাবেই যদি বাঁধা যেত
আমি বেঁধে দিতাম ইতিহাসের অভিমুখ
বেঁধে দিতাম পৃথিবীর কক্ষপথ
আমি আটকে দিতাম সময়
যাতে না হারাতে হতো শৈশব !
হারিয়েছি বলেই
জানি কতটা অমূল্য
সেকথাই বলবো
আমি আবারও লিখবো !

(ক্রমশ .......

১০.০৯.২০১৫

Tuesday, September 8, 2015

কিছু কথা খামে ভরা ....

কিছু কথা খামে ভরা
কিছু কথা খোলামেলা 
কিছু কথা চিঠি'র পাতায় 
তাই হয়তো সত্যি হয়না !

চিঠি-ডাক 
একসময় অপরিহার্য অঙ্গ ছিল 
আজ কেমন যেন অবাঞ্চিত মনে হয় !
মনে পরে ছোটবেলার কথা 
প্রচুর গেছি লেটার বাক্সে 
চিঠি ফেলতে 
আবার সময় সময় নিয়েও এসেছি !
শুরুতে যেখানে থাকতাম বাড়ির 
ঠিক পিছনেই ছিল বড় রাস্তা 
ধারেই লাল রঙের ভারতীয় পোস্টের 
স্মারক স্বরূপ লেটার বাক্স !
বেশ মজা লাগতো 
ভাবতাম এখানে ফেললাম চিঠি 
সেই চিঠি 
কোথায় কত দুরে মামাবাড়ি পৌঁছয় !
পরে নিজের চোখেই দেখেছি 
খাকি জামা -প্যান্ট পরা এক লোক 
তালা খুলে নিয়ে যায় 
বস্তা ভরে !

এই চিঠি'র সাথে জড়িয়ে প্রচুর স্মৃতি 
তখনও বাংলা লিখতে শিখিনি 
তাই ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজি হিন্দি মিলিয়ে 
চিঠি'র উত্তর দিতাম !
খুঁজলে হয়তো আজও কিছু 
পাওয়া যাবে !
বাংলা পড়তে শেখাটাও এই চিঠির 
সুত্র ধরেই 
তবে শুধু চিঠি নয় 
দাদু-দীদা 'র সাথে কথা হতো ফোনেও 
রাত ১১টা 'র পর এস। টি। ডি-র কল রেট্ সস্তা 
সকাল ৬ টা অবধি !
রাতের খাওয়া সেরে তাই 
সবাই মিলে বাজারে যাওয়া হতো 
টেলিফোন বুথে !

কথা শেষ হওয়ার নয় 
তবুও কত কথা 
স্মৃতি যেন
শেষ না হওয়া সেই গল্প !
ফিরে আসি 
এখনো কত কথা বাকি 
নিজের কথা নিজেই বলে
অদ্ভুত এ জীবন !

(ক্রমশ .......

০৮.০৯.২০১৫ 

জীবনী থেকে....

আমাকে মারণ রোগে পেয়েছে
আমার আয়ু হার মেনেছে !
যন্ত্রনা অপ্রতিরোধ্য
একক মন আর কবিতা লেখে না !
হাতে গোনা একলা কবিতা 'রা
তাই দাবি তুলেছে !
অধিকারের দাবি অবাঞ্চিত নয়
অনেক ভাঙ্গা গড়া পেরিয়ে।
আজ এক মহাকাব্য লিখছি তাই
নাম দিয়েছি "জীবনী " ....

ফিরে  এলাম .....
অনতিদীর্ঘ এ যাত্রা।
তাই ফিরে আসি বারে-বারে
কি যেন না পাওয়া থেকে যায় !
আমি একা
পথ একা
চলা একা
শেষে বিদায় !

একটা ভাঙ্গা ঘর
আজও চোখে ভাসে।
আমি থেকে আমরা
আবার আমি একা !
হাতছানি দেয় শহর আমাকে
আমিও ফিরে তাকাই
পিচ্ রাস্তায় মরীচিকা দেখি !
সাত পাঁকে বাঁধা
তবুও কতো ঠুনকো !
এক থেকে দুই
দুই ভেঙ্গে পাঁচ !
তিন সন্তান মায়ের গর্ব
তবুও হারালি শাঁখা -সিঁদুর !
তাও আজ ১৬ বছর
তাদের কথা যারা সম্পর্ক বোঝে না।
নাকি তার কথা
যে কেবল সুখ খোঁজে !
কত ভাঙ্গতে পারো
আমি দেখবো !
"আশীষ "
অনেক বড় হতে হবে 
তোমার বুকেই আমি ইতিহাস লিখবো !

আমার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়েছো
পারোনি ভাঙ্গতে আত্মবিশ্বাস!
তুচ্ছ যত দানে করেছো শোভিত
ভরসা দিয়েছো জেনো
আমিও পারি !

ক্ষণিক হতে পারি
ক্ষীন নই তবু।
হতে পারি উদাসীন
হীন নই তবু ......!!!

(ক্রমশ .........

০৭.০৯.২০১৫

Saturday, September 5, 2015

আমার জীবনী আজ থেকে শুরু হলো...

সব মানুষের জীবনেই
কিছু আদর্শ থেকে থাকে
আমারও আছে !
আর যেহেতু জীবনী লেখা'র
উদ্যোগ নিয়েছি
নিজেকে মেলে ধরা 'টা অনিবার্য
বোধ করছি !

সেই সুত্র ধরেই বলি
কবিতা ব্যাপারটা যখন
পাঠ্যসুচি'র আওতায় আসে
বা বলি পড়াটা আবশ্যক হয়ে পরে
প্রথম থেকেই
কাজী নজরুলের লেখা
আমাকে খুব ছুঁয়ে যায়
বিদ্রোহী কবি
দুখু মিঁয়া
জীবন যুদ্ধের একনিষ্ঠ যোদ্ধা
আবার প্রেমে পার্বন হৃদয়
"তুমি সুন্দর তাইতো চেয়ে থাকি "!
খুব ছুঁয়ে যায় চরিত্র'টা
কম্মুনিস্ম খুব ছোট থেকেই
রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছিলো !
কেন,কিভাবে পরে বলবো
তারপর যেমন যেমন বড় হতে গেছি
বুঝেছি পুরুষের প্রতাপ
নারী'র কোমলতায় পূর্ণতা পায় !
খোঁজ পূর্ণ হলো যেদিন মুখোমুখি দেখলাম
তসলিমা নাসরিন কে।
বাবা মেনেছি নজরুল কে
এবার আমি মা কে পেলাম !
আমার পরিবারে কেউই খুব বেশি
আবেগপ্রবণ নয় সবটাই কমার্শিয়াল !
আমিও তাই কিন্তু ভিতরের শিল্পী
সে যে অর্থনীতি বোঝে না !

অগত্যা যুদ্ধ চলে আসছে
হিংসা বনাম ভালোবাসা !
ভালো -মন্দ দুই একই
মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ !
কোরান টা পড়ার বাসনা রয়ে গেছে
গীতা বাইবেল পরে ফেলেছি !
একটা প্রশ্ন থেকেই যায়
সত্যমেব জয়তে
তবে সত্য কে এতো বিকৃতি দাও কেন ?
আমার জীবনী আজ থেকে শুরু হলো
তোমরা যারা বিকৃতি দাও
সবাই কে আমন্ত্রণ রইলো
তলোয়ার নিয়ে আসো
বুলেটে করে দাও ঝাঁঝরা
কলম থামেনি
কলম থামেনা ............

ক্রমশ .........

০৬.০৯.২০১৫

কিছু কথা এলোমেলো .....

"আমি জানি
তোর্ দায় টা ইতিহাসের কাছে
সে ইতিহাস কেউ লিখেছিলো
এ ইতিহাস আমি লিখবো !"

আমার ছোটবেলায়
দিল্লিতে ছিলাম কম বেশি
প্রায় ৭ বছর
জুন ,১৯৯২-অগাস্ট ১৯৯৯।
আমি যে প্রেমিক ব্যক্তি
সেই পরিচয় টা আমার ছোট থেকেই
প্রকাশ পেয়েছিলো !
ছোটবেলা থেকেই আমি বাবা-মা
দুজনেরই খুব ন্যাওটা ছিলাম
যদিও বাবা 'র বেশি প্রিয় ছিলাম
অনিবার্য ভাবে !
বাবা আমাকে "বাপি " বলে ডাকতো
দাদা কে "পাঠি "
মাল টা ছিলো তাই .............=D
পুরো মেন্টাল কেস !
যদিও বাড়ির বড় ছেলে
আদর টা বেশি পেত
আরও একটা কারণ ছিল যদিও
সেটা ও'র গায়ের রং
দুধ ফর্সা তায় লাল আভা !
পাতি বাংলায়
যাকে বলি দুধে -আলতা !
আমি নাকি জন্ম থেকেই খুব কালো
তাই আমার ডাক নাম পরে "কাল্টু " !
সেটাই চলে আসছে যদিও :/
যাই হোক ,যে সময় আমি স্কুল যাওয়া
শুরু করিনি
সে সময়ের কথা
আমার দুরন্তপনা'র অন্যতম কাহন
সকালে বাবা অফিস -দাদা স্কুল
আমি ঘরে মায়ের সাথে
ঘরের সামনেই খোলা মেলা জায়গা ছিল
কাপড় ধুয়ে সেখানে শুকোতে যেত মা
সেখানে ছিল একটা মরা গাছের কান্ড
গুঁড়ি বলা যায় !
মাটি থেকে বেশ অনেকটা উঁচু
আমার খেলা ছিল ওতে চেপে !
এই গুঁড়ির কোটোরেই থাকতো ক'টা কাঠবিড়ালি
আমার খেলার সঙ্গী
রীতিমতো প্রতিযোগিতায় মেতে সেই গুঁড়ি-তে
ওঠা ও নামা এই ছিল আমার খেলা !
তবে শুধু এটুকুই না
বয়েস বাড়ার সাথে সাথেই
পাইপ ধরে উঁচু উঁচু বিল্ডিং -এ
চাপাটাও নেশায় দাঁড়িয়ে গেছিলো !

দিয়েছিস যত কেড়ে ছিস
আরও অনেক বেশি !
দেখ আমি ফিরে এসেছি
তোর্ বুকে ..........
তোদের মাঝে !!!

...............(ক্রমশ :.........০৫.০৯.২০১৫



Friday, September 4, 2015

ইতিহাসের অনেক বাকি এখনো ....

"নীরবে কাঁদিস
বুঝি তোর্ চোখ
কেউ মুছে দেয় না !
বড় শহরে অনেক আলো
শহর মানেই দেখতে ভালো !"

এমনি একটা ধারণা
যারা ছোট শহরে থাকে !
আর আমার জীবনের জ্ঞান চক্ষু উদয়
এই রাজধানী শহরে
তাই হয়তো
মায়াটা আমায় পায়নি !
অনেকেই দেখি বড় শহরে
এসে যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলে !
সেই দিক থেকে দেখলে
আমার ব্যাপারটা মিহির সেনের মতো
সেই যে বিশ্বজয়ী সাঁতারু  
পুকুরে ডুবে মারা যান !
যদিও  আমার স্বপ্নের উড়ান কে
ডানা দিতেই হয়তো
বিধি এই শহরের সাথে
আমার নিয়তি জুড়েছে !
দেশের রাজধানী শহর
কম-বেশি সকল দেশবাসী'র গর্ব
সকলেরই বাসনা
একবার নিজের চোখে এই শহরটা দেখে।
সেই পরিপ্রেক্ষিতে
আমি ভাগ্যবান বলতেই হয় !
ছুটি'র দিন মানেই ইন্ডিয়া গেটে
ফ্যামিলি পিকনিক ,ওয়াটার রাইড।
কুতুব্মিনার-লালকেল্লা -যন্তর মন্তর
চিড়িয়াঘর-রাষ্ট্রপতি ভবন -সংসদ
সুপ্রিম কোর্ট -বিড়লা মন্দির - কালী বাড়ি
মনে হয় সব ক'টাই বলে ফেললাম
ছোটবেলাতেই দেখেছি।
রোজই অফিস আসা-যাওয়া
আজ সময় পাইনা।
ছড়িয়ে থাকা ইতিহাস
মূল্যহীন বা অমূল্য !
বিখ্যাত কবি'র কথায়
সৌন্দর্য নাকি দর্শকের চোখে
তবে বলতেই হয়
সত্যি এক অমোঘ সৌন্দর্য
ঘিরে রয়েছে এই শহর কে !
কলকাতা'র সাথে আমার সম্পর্ক খুব মধুর নয়
সেই অর্থে এই শহর
অনেক দিয়েছে আমায়
অন্তত : আজ আমার লেখক জীবনীর
শুরুতেও সাক্ষী এই শহর।

একটাই কথা
জানিনা কবে শেষ হবে
তবে তুমি ছিলে
তুমি থাকবে !
তোমার ঋণ শোধ দেব
কিসের ঋণ
কেন ঋণ
বোলবো........
ইতিহাসের অনেক বাকি এখনো .........

(ক্রমশ :......

০৪.০৯.২০১৫

Thursday, September 3, 2015

প্রাথমিক শিক্ষা ...

আজ কিছু কথা
আমার কবিত্ব নিয়ে বলি !
ছোটবেলা তে সেভাবে যে ছড়া 
বা কবিতা'র প্রতি আগ্রহ ছিলো বলা যায় না !
এমনকি অনেক পরেও 
সেরকম কোনো অনুভুতি ছিল না 
কবিতার প্রতি অনুরাগ টা এলো প্রেমে পড়ে !
কিন্তু সেটাই যে একমাত্র কারণ 
বলা হয়তো ভুল 
শিল্পের প্রতি অনুরাগ টা রক্তে ছিল 
সন্দেহ নেই 
আর সেই সুত্র টা 
মায়ের থেকে পাওয়া !
মায়ের গানের গলা অসাধারণ 
ছোটবেলায় ঘুম না পেলে 
মায়ের কাছে আবদার করতাম 
আর মায়ের মুখে আমার সব থেকে প্রিয় গান 
অগত্যাই "আকাশ প্রদীপ জ্বলে "
অসাধারণ লাগতো 
বাংলা ভাষার মাধুর্য সম্পর্কে 
সেই প্রথম আমার চক্ষু উদয় !
আমার শৈশব জুড়ে ছিল 
গায়ক হওয়ার ইচ্ছা !
যদিও আমার শিশু অবস্থায় 
আমার প্রবণতা ছিল নায়ক হওয়ার !
প্রচুর সিনেমা দেখতাম সেই ছোট বয়েস থেকেই 
মনে আছে "হাম আপকে হ্যা কউন "."ক্রিমিনাল "
হলে দেখেছিলাম 
শেষ হলে সিনেমা 
"চাচি ৪২০"
আমি -দাদা -বাবা গেছিলাম !
ঘরেই টি ভি তে দেখেছিলাম 
"১৯৪২ এ লাভ স্টোরি " !
যদিও কিছু বুঝতাম কিনা সন্দেহ 
কিন্তু দেখতাম সবই !
ছোট বেলাতেই মা -বাবা দুজনেই 
পড়ার নেশা টা তৈরী করে দিয়েছিলো 
বাবা নিজেও ইংরেজি তে সাম্মানিক স্নাতক 
ইচ্ছা ছিল ছেলে'রাও যেন সেভাবে তৈরী হয় 
স্মার্ট,আপ টু ডেট ,সেল্ফ ডিপেন্ডেন্ট 
কিছুটা হলেও হয়েছি 
সৌজন্যে বাবা !
ঘুরতে বের হলেই নিয়ম ছিল 
বাবা কিছু ১টা বই কিনে দিত !
মহাভারত -রামায়ন পড়েছিলাম  
সৌজন্যে মা !
আমার প্রাথমিক শিক্ষা 
মায়ের কাছে !
মা আজও
একটা কথাই বার-বার মনে করিয়ে দেয় 
"জীবনে আর যাই করিস 
কারও দীর্ঘ শ্বাসের কারণ হোস না !"   
...................
ক্রমশ :
..........
০৩.০৯.২০১৫  

Wednesday, September 2, 2015

গতি জাড্য......

জীবনের কথা বলতে গিয়ে
কিছুটা তাত্ত্বিক হতেই হয় 
আর ,জীবন তত্বের কথায় 
গতি'র ভূমিকা অনিবার্য 
গতিময়তা জীবন 
স্থবিরতায় মৃত্যু !
আর অনিবার্য বা আকস্মিক ভাবেই 
গতি'র সাথে আমার বেশ অন্তরঙ্গ সম্পর্ক !
ছোটবেলায় খুব ছুটতাম 
কারণ ছিলো না 
ভালোবাসতাম ছুটতে 
আমাদের পাড়ায় সে সময় 
রোড রেস হতো 
উদ্যোক্তা লোকাল কমিটি 
কমিটি'র অন্যতম কর্তা ব্যক্তি 
আমার বাবা !
সেই সৌজন্যে 
পুরস্কার সকল আমাদের বাড়িতেই রাখা হতো !
জন্ম মুদ্রাও বলা যায় 
যেমন পড়াশোনায় তেমনি দৌড়ে 
আমি বরাবরই থার্ড হতাম !
আক্ষেপের কোনো কারণ ছিল না 
কারণ প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় 
আমার কাছে চিরদিনই স্বাভাবিক ! 
সেই গতি সুত্র ধরে এগোতেই 
আমার ভালোবাসা জন্মায় 
ফুটবলের প্রতি।

যদিও দিল্লি তে ফুটবলের মাঠ চোখে পড়েনি 
খেলা বলতে গলি ক্রিকেট 
লুকো -চুরি ;ট্রাম্প কার্ড 
এসবই ছিল বেশি !
ঘরের ঠিক সামনেই ছিল 
আমাদের কলোনির গ্রিল দেওয়া পার্ক 
যদিও তাতে ঘরের দরজা জানলা রক্ষা পেত না !
মায়ের ছিল বাগান করার শখ 
প্রচুর ফুলের গাছ ,পাতা বাহার ছিল !
আবার মনে পড়ে 
একবার মা করলা'র বীজ ফেলেছিলো 
কি বিশাল সব করলা হয়েছিলো। 
বাঁদরের উপদ্রবও উল্লেখযোগ্য 
যদিও এটা
পুরোনো দিল্লি'র অনেক জায়গায় পাওয়া যায় !
যারা
"দিল্লি -৬" বা "বজরংগী ভাইজান "
দেখেছেন বুঝতে পারবেন !
প্রসঙ্গত ,
"জয় বজরং বলি "
প্রানবন্ত দিন সেসব 
আজ স্মৃতি সব আবছা 
তবুও লিখছি 
আবার'ও ভাবছি 
পুরোনো সেই দিনের কথা 
সে কি ভোলা যায়.......
__________
(ক্রমশ :)   

০২.০৯.২০১৫

Tuesday, September 1, 2015

জীবনের মূল্য............

যারা খুব কাছের
আমার ভোজন রসিকতা
সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল !
আর আমার পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থান
চিরদিনই মাংসের
মাছের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ নেই
বলা যায় !
কারণ,স্বভাবতই
আমার ছোটবেলার অভ্যেস
তদুপরি ,কাঁটা দুর্যোগ।
আমার মা -মামা'দের
খুব কম দুর্যোগ পোহাতে হয়নি
আমাকে মাছ খাওয়াতে !
যদিও আজও আমি ততটাই উদাসীন
যতটা প্রথমদিন ছিলাম !
আমার ছোটবেলা থেকেই মাংসের
স্বাদ পেয়েছিলাম বাবার সৌজন্যে
রবিবার মানেই খাসির মাংস
বাবার হাত ধরে মাংসের দোকান
আমার মেটে ভালো লাগতো
বাবা তাই আলাদা করে মেটে নিতো
আমারই জন্যে !
মাংসটা বাবা নিজেই রান্না করতো
আর বলাই যায়
বাবা মায়ের তুলনায়
অনেক ভালো রাঁধতো
যদিও মা বলে
পানের আসক্তি তার মূল কারণ !
যাই হোক ,
পানের আসক্তি বাদ দিলে
বাবা 'র সাথে
আর কোনো সমস্যা ছিল না মায়ের !
তবে অনিবার্য কারণবশতই
জানিনা কেন
বাবা নিজেকে শেষ করে ফেললো !
সেই
এক ধ্বংস প্রবৃত্তি
আমিও আমার মধ্যে অনুভব করি !
বিজ্ঞানের ভাষায় জিনতত্ব
বলা যায়
জানিনা কেন
সময় কেমন যেন
একলা হতে বাধ্য করে দেয় !
অজানা
অদম্য
অজেয়
এ মাদকতা
প্রতিটি রন্ধ্র থেকে শুষে নেয়
জীবন'রস
পরে থাকে অসার দেহ !
ক্ষুদিত জীবন
জীবিত সময়
তবুও জানিনা কেন
জীবনের মূল্য দিতে পারেনা ।
........
(ক্রমশ :)
.............
০১.০৯.২০১৫

Monday, August 31, 2015

গরমের ছুটি ....

ছোটবেলা বলতেই মনে পড়ে
গরমের ছুটি
আর ছুটি মানেই
দৌরাত্ম্য দ্বিগুন !
আমাদের বাংলায় পোকা-মাকড়ের
উপদ্রব খুব বেশি !
দিল্লিতে ঠিক তার উল্টো
এমনকি পিন্প্রেও রীতিমতো
খুঁজে দেখতে হয় !

তা আমার অবসরযাপন এর
অভ্যাস ছিলো পিন্প্রে ধরা !
আমার কাছে একটা
চাবান্প্রাশের কৌটো ছিলো
সেই কোটো তে চোখে পিন্প্রে এলে
বন্দী করা এই ছিলো কাজ !
তবে শুধু এখানেই ক্ষান্ত হতাম না
বাংলায় কথা আছে মাছি মারা।
আর,মাছি মারা যে
নেহাৎ  সহজ কাজ না
যারা মেরেছে তারা জানে।
আমার মাছি মারা'র সময় ছিল
দুপুরবেলা
মা-বাবা সবাই ঘুমোচ্ছে ভিতর ঘরে
আমি তখন বাইরে ঘরে
জানালায় পর্দা টাঙানো তার পিছনে দাঁড়িয়ে।
জানলার ওপারে ছিল কাগজ্ফুলের গাছ
কাঁচের এপারে মাছি ;ওপারে গাছ
তা,আমার আর মাছি'র মধ্যে
দূরত্ব'টুকু ছিল ওই পর্দা'র !
প্রসঙ্গত পর্দাই ছিল আমার ব্রহ্মাস্ত্র
প্রথম কিছুক্ষণ অপেক্ষা !
তারপর সুযোগ পেলেই আঙ্গুল পর্দায়
পর্দা কাঁচে এবং সংহার।
আমার এই হত্যালীলা চলতো
৪ টে না বাজা পর্যন্ত।
কারণ,৪ টে  তে ছিলো
খেলতে যাওয়ার্ সময়।
তখন,এতটা লম্বা ছিলাম না
তাই দরজার ছিটকিনি খুলতে
একটু অসুবিধা হতো।
তবে,তা সাময়িক
আস্তে আস্তে দরজা খুলে
বাইরে বেরিয়েই
দে ছুট ....... !!!

(ক্রমশ .......)

৩১.০৮.২০১৫

Sunday, August 30, 2015

প্রথম প্রেম ....

তোমরা আমাকে কবি বলেই জানো
এমনকি,আমার ও তাই ধারণা। 
চেষ্টা করে দেখেছি স্বাচ্ছন্দ্য আসে না
তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই আমার 
বিদ্যাসাগর থেকে বিভুতিভূষণ অনেক দিয়েছেন 
আমি না হয় কিছু কবিতা লিখি !
রবি ঠাকুর থেকে নজরুল সকলেই তো কবি 
কবিতা মানেই প্রেম 
প্রেম না থাকলে কবিতা আসেনা। 
আর ,আমার জীবনেও প্রথম প্রেম 
এই শহরের বুকে 
আমারই সহপাঠিনী 
তখন যদিও প্রেম ব্যাপার টা বুঝতাম না। 
আর যতদিনে বুঝলাম 
অনেক দুরে ফেলে এসেছি ওকে !
আমি আজও একা হাঁটি এই শহরের বুকে 
পূর্ব থেকে দক্ষিন রোজ পাড়ি দি। 
আজও মনে হয় ও'র কথা 
মনে হয় ,
যদি মুখোমুখি হই !
আমি হয়তো চিনতে পারবো না 
কিন্তু ও পারবে 
সেদিনও ওই চিনেছিলো 
কোনো এক অজানা অধিকার ছিলো যেন ও'র 
আমার ওপরে !
দেখা হলে  শুধু একটাই কথা 
বড় হলে কাকে বিয়ে করবো ?
আজও ভেবে কুল পাইনা ওইটুকু বয়েসে 
জীবনের এত বড়ো  সিদ্ধান্ত 
কিভাবে কেউ নিতে পারে!
পারে কেবল তখনই 
যখন মানুষ প্রেমে পড়ে। 
ও পড়েছিলো আমি বুঝিনি 
আজ অবচেতনে খুঁজি তাই হয়তো পাইনা। 
কিন্তু আজ একটা কবিতা 
যে কবিতা'র উত্তরাধিকার সত্ব ও'রই নামে 

"আমার মরণশীল জীবন 
সীমিত সময় !
অবসর চাইনা আমি 
যদি ,তুমি পাশে থাকো। "
.............
(ক্রমশ :)  

৩০.০৮.২০১৫  

স্কুলে যাওয়া ......

এখন আমি ২৫
আমার শৈশবের পর আমার যৌবন 
আমি ও আমার শহর !

অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে এই শহরের কথা 
আমার জীবন এই যমুনা'র দান। 

মনে পড়ে ,আমার প্রথম স্কুল যাওয়া 
মায়ের ইচ্ছা ছিল দাদা'র পর যেন 
একটা মেয়ে হয়। 
হয়নি তাই মায়ের যাবতীয় 
সাজগোজ অত্যাচার হতো আমার উপরই !
সারামুখে পাওডার লাগিয়ে 
তারপর শুকনো কাপড় দিয়ে মোছা 
এই ছিল মায়ের নিয়ম !
মায়ের হাত ধরে স্কুলের প্রথম দিন 
আমি কিন্তু কাঁদিনি 
কোনো কারণ ছিলোনা ইনফ্যাক্ট !
সরকারী স্কুল ,সালটা ১৯৯৬
ছোট ক্লাসে বেঞ্চ থাকতো না 
আমার শিক্ষা শুরু হলো শতরঞ্জিতে বসে। 
ভালো লাগতো আমার 
আজও ভালো লাগে 
ভালো লাগাটা এই মাটি -কে 
ওই সাধারণ মানুষগুলো কে। 
সেই শিক্ষাই হয়তো আজও 
আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়
সরলতা ও বিনয়ের পথে চালিত করে !
ঘর থেকে পায়ে হাঁটা দুরত্বেই 
ছিলো আমার স্কুল। 
অবশ্য এতদিনে আমরা একটা 
ভালো ঘর নিয়েছিলাম। 
গরমের দিনে সকাল থেকে স্কুল 
শীতকাল হলে দুপুরে। 
সকালের স্কুল থাকলে 
বাবা'ই তৈরী করে পাঠাতো 
দুপুরে হলে মা !
স্কুল যেতে গিয়ে যেটা সবথেকে 
বড় সমস্যা ছিলো আমার কাছে 
তা হলো সব হয়ে গেলেও 
জুতো'র ফিতে কিছুতেই বাঁধতে পারতাম না। 
এই শিক্ষা 'র ঋণ 
আমার দাদা'র কাছে। 
আগেই বলেছি দাদা ছিল খুব শান্ত 
সঙ্গেই যে কোনো ঘরোয়া কাজে দক্ষ !
পড়াশোনায় ভালো ছিলাম 
আমার রেজাল্ট সে কথাই বলে। 
আমাদের ক্লাসে ২টো ফার্স্ট বয় ছিলো 
রাকেশ ও ইমরান 
সেকেন্ড হতো দীপক 
আর আমি থার্ড। ..............(ক্রমশ: )   


---------------

৩০.০৮.২০১৫
 

ল অফ মোশন.........

আমার উপদ্রবে নাজেহাল
মা একবার আমার মাথা ফাটালো !

বাবা মা -এর উপর খুব রেগে গেছিলো
যদিও মা 'ই নিয়ে গিয়েছিলো
ডাক্তারের কাছে !

মনে পড়ে
ডলি আন্টির কথা
জ্বর ইত্যাদি সকল ব্যামো'র
ওয়ান স্টপ সলিউশন !
তবে সে সময় জীবনে একটা
বেশ মজা ছিলো !
আবার আমার বানানো নিয়মও
বলা যায়....!!!
যতবার শরীর খারাপ হতো
মায়ের কাছে নতুন একটা খেলনা নিতাম !

কমিক্স পড়ার নেশাটাও খুব ছিলো
আবার,সেই সময় ভারতের
প্রথম কমিক স্টার জন্ম নিলো .
সবাই জানে আমি জানি
প্রসঙ্গত ভদ্রলোক মুকেশ খন্না
আমরা ডাকতাম "শক্তিমান" !
সেইসময় কেবেল টি.ভি 'র কনসেপ্ট
কম ছিলো বলা যায় !
চ্যানেল বলতে ডি। ডি ১ ব্ল্যাক & ওয়াইট
টি ভি বলতে মনে পড়ে
যতটাই আমি চঞ্চল ছিলাম
আমার দাদা ছিল ততই শীতল !
অন্তত আমার তুলনায়
যদিও ১ বছরের ছোট -বড় ছিলাম আমরা !
কিন্তু,লড়াই বাঁধলে আমি জিততাম
নিরপেক্ষ ভাবেই বলছি !

কিন্তু ,
সেবার ব্যাপারটা বাবা'র চোখে পড়ে গেলো
ফলস্বরূপ নিউটনের ল অফ মোশন
চরিতার্থ হলো টি। ভি র ওপর।
একটু ভেঙ্গে বললে
সেদিন রবিবার ছুটির দিন
দু,ভাই মিলে টি ভি তে ম্যাচ দেখছি।
কিন্তু পুরোনো টি ভি এন্টেনা 'র অদ্জাস্ত্মেন্ট
সেই নিয়ে হাতাহাতি।

বাবা'র চোখে পড়তেই
টি ভি ভূ পতিত হলো।
শ্মশানের শান্তি তখন চরাচরময়
কেউ একটু শব্দ করিনি
বাবা খুব নিরুত্তাপ ,
নিরপেক্ষ ;নীরব
চিরদিনই !

..........(ক্রমশ )

-২৯.০৮.২০১৫

আমার শহর একলা কাঁদে ....

আমার শহর একলা কাঁদে
এখন অনেক রাত
রাতের আকাশে রং হয়না
ঝিকিমিকি তারাদের
জোনাকি পথ দেখায় !

আজ আমি লিখছি
আমার শহরের কথা !
বকলমে আমার আত্মকথা
আমার আত্মা
আমার আত্মমেহন
আমার শহর
মহানগর দিল্লি !

আমার জন্ম যদিও প্রত্যন্ত বাংলার
রেলশহর চিত্তরঞ্জন !
সম্পূর্ণ ৩ বছর হইনি তখনও
তাই জ্ঞান ছিলোনা !
মা-বাবা -দাদা -আমি
আমরা মামাবাড়ি ফেলে দিল্লি আসি !
সে অনেকদিনের কথা
আমি তখন ৪ বা ৫
আমার অক্ষর জ্ঞান ইংরেজিতে
তারপর হিন্দি
বাংলাটা তখনও দাদু -দীদা 'র লেখা
চিঠির ভাষা বলেই জানতাম !
দীদা আমায় বাদশা নাম দিয়েছিলো
এই তো সেদিন মায়ের সাথে
পুরোনো কিছু ডায়েরির পাতা
উল্টোতে গিয়ে জানলাম
দীদা আমার নাম ভেবেছিলো শুভদীপ।
যদিও দাদা'র নাম সৌরভ হওয়ায় নাকি
আমার নাম গৌরব রাখা হলো।
যদিও গৌরব নামটাই আমার পছন্দ বেশি
সমাস করলে যে গুরু দাঁড়ায় তাই !
যাই হোক ,আমাদের তখন ভাড়া বাড়ি
তখন যদিও
এই মহানগর কে এতটা কাছ থেকে দেখিনি
এখন দেখি বা বলি দেখার চোখ
এই শহরটাই দিয়েছে আমাকে !

যে সময়ের কথা বলছি
সেটা আজ থেকে
প্রায় ২০ বছর পিছনে !
মানচিত্রে দেখলে জায়গাটা
দিল্লি'র উত্তর প্রান্তে
কাছেই পায়ে হাঁটা দুরত্বে
বিশ্ববিখ্যাত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় !
তখন জানতাম না
আবিস্কারের সাল ২০১২
আমার দিল্লি প্রত্যাবর্তন !

জায়গাটা'র নাম তিমারপুর
প্রথম দিকে আমরা থাকতাম একটা
এক কামরার ঘর নিয়ে।
জানিনা তখন বি পী এল (BPL) কথাটা ছিলো কিনা
যদি থেকে থাকে তবে আমরা তাই ছিলাম !
একতলা বাড়ি সারি দিয়ে ৪টে সমান মাপের
কম-বেশি ১০/১২ ফুটের কামরা।
২টি সার্বজনীন শৌচালয় বরাদ্দ ছিলো
ব্যবহার করতো কম-বেশি ১৫-১৬ জন মানুষ
ঠিক পিছন দিকেই ছিলো একটা বড় রাস্তা !
যারা দিল্লি এসেছেন বা জানেন
যে দিল্লি'র রাস্তা বিশ্ববিখ্যাত
তার প্রশস্ত উদারতার জন্যে !
তখন আমি নার্সারিতে পড়ি
আমার ধারণা আমি আজও শৈশব হারাইনি
বা,বলা যায় হারাতে চাইনা।
আর যখন শিশু ছিলাম
সুকুমার রায় বেঁচে থাকলে "ডানপিটে ছেলে "টা
আমায় উত্সর্গ করতেন

বলাই যায় !..........(ক্রমশ )

-২৯.০৮.২০১৫

হাপিয়ে গেছি এত বড় লেখা যায় ..........:(