Tuesday, February 23, 2016

তোমাকে বলি ,

"যেমন গাছ
তার তেমন ফল"

সর্বজন বিদিত প্রবাদ !

জীবনের প্রতি পদেই প্রতিফলন
প্রতিটি মানুষ অনুভব করে থাকে !
আমার অনুভুতি 'রা
মাত্রা ছাড়ায়
তারা ভাবায়
তাই আমি কবি /লেখক !

সংকীর্ণতাদের একটা আকাশ থাকে
আমরা ভিন্ন বেশ ভূষায় অলংকৃত করি
আমাদের বাহ্য রূপ !
ইদানীং আমাকে ভাবায়
অনেক কথা
বিশেষ করে যখন ভাবি
মানুষে মানুষে বিভেদের কথা !
কি এর কারণ
প্রথমেই আসি
সব থেকে বড় বিভেদ
না জাতি নয়
দেশ কালের সীমা নয় !
তার থেকে বড়
একটা সংকীর্ণ বিভেদ
যাকে কেন্দ্র করেই
এই আকাশের বিস্তৃতি সীমা ছাড়ায় !
লিঙ্গ বিভেদ
নারী পুরুষের বৈষম্য !

আমার মা বাবা'র সম্পর্ক নেই
শারীরিক
মানসিক আছে !
আমার উপলব্ধি
বিতর্কের আলোকবর্ষ অবকাশ রাখে !
আজ লিঙ্গ ভেদ নিয়ে ভাবলে
মনে হয় তাদের স্বাধীন সত্তার কথা !
অবশ্যই ,
সে স্বাধীন সত্তা উত্তরাধিকারে আমি পেয়েছি !
তাই সম্পর্ক কে বন্ধন নয়
আমি দেখি আকাশ হিসেবে !

তোমাকে বলি ,
যেখানেই থাকো
যেই হও তুমি
একটাই অনুরোধ
বন্দী হয়ো না
স্বাধীন হয়ো
আমার আকাশে ! - ২৩.০২.২০১৬

(জীবনী -৫২ )

Wednesday, February 17, 2016

কাঁটাতার

মাঝে খুব শরীর কেন্দ্রিক
হয়ে গেছিলাম
তোমায় পেয়ে আবারও
কবি হয়ে উঠছি !
সাক্ষী থেকো
হোক অবিনশ্বর
তোমার আমার মিলন !
থেমে থাকবে না বসন্ত
কুহু ডাক মিশে যাবে
অনন্ত শুন্যে !
তবুও তুমি থেকে যাবে
জন্ম নেবে কবিতা
তোমার গর্ভে !
ও'র চোখে ইতিহাস হয়ে ফুটবে
তোমার অনুরাগ !
দেশ -কাল -ধর্ম
বিবাদ থাকবে না !
তোমার স্মৃতি
যে বুকে অলংকার
সে মন আয়ুহীন !
তুমি যদি পাশে থাকো
আবারও
বোনা হবে নকশী কাঁথা !
আমার হিন্দু শরীর কবর যাবে
তোমার দেশের মাটিতে !
দু'টি মন কে বাঁধবে
কোথায় সে কাঁটাতার ? -১৭.০২.২০১৬

(জীবনী -৫১)

Sunday, February 14, 2016

```রুক্ষ বসন্ত......

জীবন যদি
একটা ঘূর্ণি হয়
আমি তাতে মূল চরিত্র !
আর ঘুর্নিতে ফিরে ফিরে আসা
বিভিন্ন মুহুর্তের সমাহার
আমার জীবনের মুহূর্ত গুলো !

আমি কে ?
আমি পুত্র
আমি পাত্র
আমি পুরুষ
আমি প্রেমিক !

শেষ পরিচয়ে আমি প্রেমিক
সবাই তাই হয় !
সময় লাগে বুঝতে
সময় লাগে অনুভব করতে
অনুভুতি'র শেষে একটা অন্ধকার রাত
যার ওপারে
অপেক্ষায় সূর্য ওঠা সকাল !

সহস্র প্রেমিকা সাক্ষী
আমার পূর্ণ যৌবনের জীবন
১২ থেকে ৭২ কেউ নয় বাদ !
বিলিয়ে দেওয়া চোখ
হাত পেতে নিয়েছি
আমার অপূর্ণতা কে পূর্ণতা দিতে চেয়েছি !
বুঝিনি জীবনের ধর্ম
প্রেম কেবল সময়ের নিয়মে
অনিয়মিত যা কিছু
স্মৃতি ও সঞ্চয় !

ক্ষয় পেয়েছে অঙ্গীকার
ভয় এখন অভিমানের অপর নাম
চোখে জলের স্থান নিয়েছে মরীচিকা !
আমি আর তোমায় খুঁজিনা
তুমি কথাটাই মিথ্যা
তুমি কিছু হয়না
সত্যি একটাই
কবি ও তার সাগর
কারণ ,
কবি'র চোখে জল এলে
সাগর শুকায়ে যাবে লজ্জায় !

প্রেমিকা বাস্তব খুঁজলে
রবি ঠাকুরের জায়গা নিতে পারি
কল্পনার থেকে
বাস্তবের রুক্ষ বসন্ত শ্রেয় ! - ১৪.০২.২০১৬

(জীবনী -৫০)

Tuesday, February 9, 2016

মানবিকতার শিক্ষা

জীবনী'র পাতায়
আজ লিখি কিছু
পার্শ্বচরিত্রের কথা !

কারণ তারা জীবনের মূলস্রোতের অঙ্গ নয়
কিন্তু তাদের ছাপ রয়ে গেছে
অনিবার্য ভাবে !

আমার ছোটবেলা জুড়ে এমন অনেক মানুষের কথা
বলতে পারি
যারা চেতনে বা অবচেতনে
অঙ্গ হয়ে গেছিলো !

প্রথমেই বলতে হয়
সীতা মাসি'র কথা
আমাদের বাড়িতে এনা'র আগমন
দিদা'র দেখাশুনা
তথা গার্হস্থ্য কাজের সুত্রে !
এই সীতা মাসি'র এক ছেলে
স্বামী ছেড়ে চলে যায়
এক মেয়েও বোধ হয় ছিল
ভালো মনে নেই
ছেলেটার নাম সুভাষ
খুব ভালো ফুটবল খেলতো
লেখা পড়ার তেমন সুযোগ হয়নি !
আমার ছোটবেলা থেকেই উদারপন্থা
পারিবারিক সুত্রে পেয়েছিলাম
ক্রমেই দেখলাম
আমি দাদা ও'র সাথে খেলতে যতই
স্বচ্ছন্দ ছিলাম
অন্যেরা ওকে এড়িয়ে যেতো !
কারণ ,সামাজিক স্তর বিভাগ
ও যে ঝিয়ের ছেলে !
আমি তো ও'র মা কে মাসি বলে ডাকতাম
একসাথে বসে ভাতও খেয়েছি
এই মানবিকতার শিক্ষা টুকু
আমার পরিবার আমাকে দিয়েছে
অশেষ কৃতজ্ঞ  
আমি সেই পরিবাব্রের কাছে
রিক্ত জীবন
অনুরক্ত তোমাদের ঋণে !

ও'রা ভালোবাসা'র কথা বলে
আমি বলি
সাগরের ঢেউ কি গোনা যায় ?-০৯.০২.২০১৬

(জীবনী -৪৯)

Sunday, February 7, 2016

প্রেম একবারই এসেছিলো

ঠিক আর পাঁচটা
ছেলের মতো হোবো !
এ বাসনার মোহ
কোনদিনও আমায় পায়নি  !
নিজস্ব সত্তায়
চিরদিনই
আমি ডুবুরি !
কতই প্রশ্ন
নিত্য ধুমকেতুরই মতো
চোখের সামনে জ্বলে নিভে যায় !
সেই ছোটবেলা থেকেই
অনুভব করে চলছি !
নাবালক থেকে সাবালক
হওয়ার বৃথা চেষ্টা

সময়ের ষড়যন্ত্র মিলে
আজ আমি ২৭ মুখী জীবন !
তা এই ২৬-এর জীবনে
অনেকে ইদানিং আমার
পৌরুষ পরীক্ষা -প্রমান চায় !
এ লেখা তাদের -কে উত্সর্গ

আমি সাধারণ ছিলাম
প্রতিভা বলতে মধ্যবিত্ত মাধ্যাকর্ষণ
পেট থাকলে ক্ষিদে ও তার সংস্থান !
উপযুক্ত শিক্ষা বোঝাই
ও দাসত্বের বিনীত জীবন !
সবটাই পরিকল্পিত
তাই হয়
যখন জীবন
অনুদানের জীবন !
আমার অন্তত: তাই ছিলো

দ্বন্দ দোলাচল ;চাহিদা ও চয়নের
যে হিসাব কোনদিনই মেলার নয়
এক্ষেত্রেও প্রেমটা শুভদৃষ্টিতে আটকা ছিলোনা !
তবে ছিলো এক অন্য মাত্রা
ধ্বংসের স্পৃহা নয় এনেছিলো সৃষ্টি চেতনা
তারই অবদান
যাকে "কবি" বলো
যা হওয়ার তা হবে কিন্তু ,
হওয়াটা বিধি'র শর্তে
প্রেম একবারই এসেছিলো জীবনে
পরেরগুলো চাহিদা
পাক্ষিক বা দ্বিপাক্ষিক
মাসিকের মতই নিয়মিত !

গত ১৪ ই মাঘ তার সিঁথি রাঙ্গা হলো
আমি দেখলাম
আমার প্রেম -কে পূর্ণতা পেতে !

সেদিনও পারিনি
আজও পারবোনা
কিন্তু ,শেষটা যে অনিবার্য
প্রেম একবারই এসেছিলো !- ০৭.০২.২০১৬

(জীবনী -৪৮)

Friday, February 5, 2016

জীবনের হিসাব

এই আজকের দিন
সালটা ২০০৪
আমাদের ঘরের চৌকাঠে
নেমে এলো
অমোঘ
মৃত্যু রথ
যাত্রী
আমার দাদু
শ্রীযুক্ত ভূপেশ চন্দ্র দাস !

ইহজীবনের ইতি
দীর্ঘ ৫ বছরের
রোগশয্যা থেকে মুক্ত
মানুষটা !
মানুষ মাত্রেই কর্ম বন্ধনে বাঁধা
কৃতকর্মের ফল পেতে হয় সকল কে !
বিচার করার অধিকার আমার নয়
তাই আলোচনা ও বিতর্ক
দুইয়ের থেকেই বিমুখ আমার
নির্লিপ্ত জীবন !

যন্ত্রণা দিলে যন্ত্রণা পেতে হয়
সংযম চিরদিন
গৃহবন্দী থাকে না !
জীবনী লেখার
বহু আগেই যখন
অনামিকা (http://nirbashito.blogspot.in/)
লেখা শুরু করেছিলাম
কম-বেশি ৩ বছর পিছনে
এক জায়গায় লেখা একটি কথা
প্রাসঙ্গিক বলেই বলছি

"জীবন ছোট
দিতে দ্বিধা কোরো না ;
যা দেবে
তাই সে ফিরিয়ে দেবে !"-০৫.০২.২০১৬

(জীবনী -৪৭)

Tuesday, February 2, 2016

তিমিরের ভাষা

আমার চোখে জীবন
এ এক অন্য দর্শন
অসুম্পুর্ণটাই দস্তুর !
তৃষ্ণার জন্যে বুক
নাকি
বুকের জন্যে তৃষ্ণা !

শিশু মন না জানি কবেই
বড় হয়ে যায় অজান্তে !
এই সকল
সম্পর্কের
উত্থান পতন
সেই কম বয়স থেকেই
অনিবার্য করে দিয়েছিলো !
প্রানোচ্ছল ছেলেটা কে
কবি করে তুলেছিলো !
আমার প্রথম কবিতা লেখা
১০ বছর বয়েসে !
যদিও তাকে কবিতা বলা যায় কিনা
বিতর্কের বিষয় !
সাধারণত:
কবিতা সুন্দর মনের ফসল
কিন্তু সেই কম বয়েস থেকে
এতো ভাঙ্গা গড়া
অনিবার্য ভাবেই গুড়িয়ে দিয়েছিলো
শিশু মন -কে !

অপ্রত্যাশিত
এ অকালবার্ধক্য
নিরুপায় জীবন !
স্রোতে বয়ে যায়
কালের নিয়মে !
ও'রা নিরীহ
যারা দোষারোপ করে !
অভিলিপ্সা সময়ের দান
তথা
তিমিরের ভাষা শুন্যতা জানে ! - ০২.০২.২০১৬

(জীবনী -৪৬)

Monday, February 1, 2016

পুনরাবৃত্তি.....

কালের নিয়ম
পূর্ণ বা অপূর্ণ !
কিছুটা বেহিসাবী 
শেষ'টা অনিবার্য !
পথ চলা 
জানিনা গন্তব্য !

এভাবেই শুরু হলো 
অপ্রত্যাশিত মামাবাড়ি জীবন !
যখন আমরা গেছি দীদা অসুস্থ 
যদিও সেটা যথেষ্ট 
নতুন কথা নয় !
চোখের ছানি কাটা হয়েছে সদ্য 
হঠাত আমাদের আগমনে 
আনন্দিত হলেও
ক্রমশ : সত্য উদঘাটন 
ও সেই মানুষ'টা 
যে জীবনের সমস্ত প্রতিকুলতা কে 
হাসি মুখে মেনে নিয়েছিলো 
সে পারেনি মেনে নিতে !

আমরা তখন ছোট 
তাই বাঁদরামো'র মাপকাঠি ছিল  না !
আমাদের ঘরে তখন দুটো হাড়ি 
একদিকে দাদু বড় মামা 
অন্যদিকে দীদা ছোট মামা !
এর ইতিহাসেও আলোকপাত করবো 
তবে এখন নয় !
মূল কথা দাদু-দীদা 'র সম্পর্ক 
কোনোদিনও প্রকৃত পূর্ণতা পায়নি 
অন্তত : তাদের জীবদ্দশায় !

ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে 
এও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি !
শুধু জীবন 'গুলো দিশা খোঁজে 
রাত হাতড়ায় স্বপ্ন !
আমিও সেই পথের পথিক 
শেষ নেই যার 
তুমিও চলো 
আমিও চলি 
জীবন নদী 'র 
মোহনাহীন পারাবার ! - ০১.০২.২০১৬

(জীবনী -৪৫)