Sunday, August 30, 2015

আমার শহর একলা কাঁদে ....

আমার শহর একলা কাঁদে
এখন অনেক রাত
রাতের আকাশে রং হয়না
ঝিকিমিকি তারাদের
জোনাকি পথ দেখায় !

আজ আমি লিখছি
আমার শহরের কথা !
বকলমে আমার আত্মকথা
আমার আত্মা
আমার আত্মমেহন
আমার শহর
মহানগর দিল্লি !

আমার জন্ম যদিও প্রত্যন্ত বাংলার
রেলশহর চিত্তরঞ্জন !
সম্পূর্ণ ৩ বছর হইনি তখনও
তাই জ্ঞান ছিলোনা !
মা-বাবা -দাদা -আমি
আমরা মামাবাড়ি ফেলে দিল্লি আসি !
সে অনেকদিনের কথা
আমি তখন ৪ বা ৫
আমার অক্ষর জ্ঞান ইংরেজিতে
তারপর হিন্দি
বাংলাটা তখনও দাদু -দীদা 'র লেখা
চিঠির ভাষা বলেই জানতাম !
দীদা আমায় বাদশা নাম দিয়েছিলো
এই তো সেদিন মায়ের সাথে
পুরোনো কিছু ডায়েরির পাতা
উল্টোতে গিয়ে জানলাম
দীদা আমার নাম ভেবেছিলো শুভদীপ।
যদিও দাদা'র নাম সৌরভ হওয়ায় নাকি
আমার নাম গৌরব রাখা হলো।
যদিও গৌরব নামটাই আমার পছন্দ বেশি
সমাস করলে যে গুরু দাঁড়ায় তাই !
যাই হোক ,আমাদের তখন ভাড়া বাড়ি
তখন যদিও
এই মহানগর কে এতটা কাছ থেকে দেখিনি
এখন দেখি বা বলি দেখার চোখ
এই শহরটাই দিয়েছে আমাকে !

যে সময়ের কথা বলছি
সেটা আজ থেকে
প্রায় ২০ বছর পিছনে !
মানচিত্রে দেখলে জায়গাটা
দিল্লি'র উত্তর প্রান্তে
কাছেই পায়ে হাঁটা দুরত্বে
বিশ্ববিখ্যাত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় !
তখন জানতাম না
আবিস্কারের সাল ২০১২
আমার দিল্লি প্রত্যাবর্তন !

জায়গাটা'র নাম তিমারপুর
প্রথম দিকে আমরা থাকতাম একটা
এক কামরার ঘর নিয়ে।
জানিনা তখন বি পী এল (BPL) কথাটা ছিলো কিনা
যদি থেকে থাকে তবে আমরা তাই ছিলাম !
একতলা বাড়ি সারি দিয়ে ৪টে সমান মাপের
কম-বেশি ১০/১২ ফুটের কামরা।
২টি সার্বজনীন শৌচালয় বরাদ্দ ছিলো
ব্যবহার করতো কম-বেশি ১৫-১৬ জন মানুষ
ঠিক পিছন দিকেই ছিলো একটা বড় রাস্তা !
যারা দিল্লি এসেছেন বা জানেন
যে দিল্লি'র রাস্তা বিশ্ববিখ্যাত
তার প্রশস্ত উদারতার জন্যে !
তখন আমি নার্সারিতে পড়ি
আমার ধারণা আমি আজও শৈশব হারাইনি
বা,বলা যায় হারাতে চাইনা।
আর যখন শিশু ছিলাম
সুকুমার রায় বেঁচে থাকলে "ডানপিটে ছেলে "টা
আমায় উত্সর্গ করতেন

বলাই যায় !..........(ক্রমশ )

-২৯.০৮.২০১৫

হাপিয়ে গেছি এত বড় লেখা যায় ..........:(

1 comment: